Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
কন্যাদায়গ্রস্তদের পাশে সোহেল রানা
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সারা দেশ

হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে নিরাপদ, হয়ে যাচ্ছে ঝুঁকির শহর

  • আগুনে মৃত্যু, পাহাড়ি সড়কে ডাকাতি, সৈকতে ছিনতাই, প্রাণহানি
  • অনুমোদনহীন স্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদনে নজরদারির ঘাটতি
ইমরান হোসাইন, কক্সবাজার
agamir somoy
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৩
হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে নিরাপদ, হয়ে যাচ্ছে ঝুঁকির শহর

ছবি: আগামীর সময়

পর্যটকের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার। নীল সমুদ্র, দীর্ঘ বালুকাবেলা, পাহাড় আর প্রকৃতির টানে প্রতিবছর এখানে ছুটে আসেন ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ। কেউ আসেন পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কারও কাছে এই ভ্রমণ দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, কারও কাছে কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে কয়েকটি দিন কাটানোর উপলক্ষ। কিন্তু সেই স্বপ্নের ভ্রমণ কখনো আগুনে মৃত্যু, কখনো অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব হারানো, আবার কখনো উত্তাল সাগরে ডুবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। পর্যটনের এই শহরে নিরাপত্তার ঘাটতি, তাই এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযোগ নয়, একের পর এক ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করছে।

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে নির্মমভাবে। তিনতলা কাঠের স্থাপনাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণে বাঁচতে পারেননি ভেতরে থাকা সবাই। যে রিসোর্টে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়, বিশ্রাম আর আনন্দের খোঁজে যান, সেটিই মুহূর্তে পরিণত হয় প্রাণঘাতী স্থাপনায়। প্রশাসনের তথ্যে পরে জানা গেছে, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা অনুমোদন ছিল না। এর আগে সতর্কতা বা নোটিস দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডে অবহেলার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রিসোর্টের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

কিন্তু তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি বড় প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত হওয়ার পরও সেখানে পর্যটকদের থাকার সুযোগ থাকল কীভাবে? নোটিস দেওয়ার পরও যদি ব্যবসা চলে, তাহলে সেই সতর্কবার্তা পর্যটকের জীবন রক্ষায় কতটা কার্যকর?

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের সৈকতের নির্দিষ্ট এলাকায় ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১২ জন, ২০২৫ সালে ২০ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকার মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থাকা হোটেল-রিসোর্টের সংখ্যা কম নয়। দুই শতাধিক স্থাপনা পরিদর্শন ও নোটিস দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তার ভাষ্য, কতটি স্থাপনা নিয়ম মেনেছে, কতটির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে এবং কতটিতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাব জরুরি। কারণ কাগজে-কলমে তদারকি থাকলেও বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বিপদের মুখে পড়েন পর্যটকেরাই।

রিসোর্টের আগুনে প্রাণহানির শোক কাটতে না কাটতেই ১৯ অক্টোবর ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় একই দিনে দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়ায়। সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে দুপুরে একই এলাকায় অস্ত্রধারীদের তৎপরতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০, তদন্তে কমিটি

১৭ অক্টোবর ২০২৬

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কয়েকটি যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে। কেউ হারিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, কেউ দেড় লাখ টাকা। কতটি যানবাহন সরাসরি লুটের শিকার হয়েছে, তা নিয়ে ভুক্তভোগী ও পুলিশের বক্তব্যে পার্থক্য থাকলেও দিনের আলোয় এমন ঘটনায় সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া মালামাল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং দুজনকে আটকের তথ্য জানিয়েছে। পর্যটন জেলার সড়কে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে ভ্রমণের শুরু থেকেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে কক্সবাজার জেলায় ডাকাতির ১৪টি, দস্যুতার ২৩টি এবং চুরির ১৬০টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে ডাকাতির ১৬টি, দস্যুতার ২৫টি এবং চুরির ১৫৭টি মামলা হয়েছিল

শুধু পাহাড়ি সড়ক নয়, কক্সবাজার শহরে পর্যটকদের ছিনতাই ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অপরিচিত শহরে হোটেল খোঁজা, সৈকতে যাওয়া কিংবা দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে অনেক পর্যটক অটোরিকশা ও টমটমচালকদের ওপর নির্ভর করেন। এই নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে কাউকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া বা হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে। আবার ঝামেলা এড়াতে অনেকে অভিযোগ করেন না। ফলে প্রকৃতপক্ষে কতজন পর্যটক এমন ঘটনার শিকার হন, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন।

তবে জেলা পুলিশের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে কক্সবাজার জেলায় ডাকাতির ১৪টি, দস্যুতার ২৩টি এবং চুরির ১৬০টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে ডাকাতির ১৬টি, দস্যুতার ২৫টি এবং চুরির ১৫৭টি মামলা হয়েছিল। অর্থাৎ ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা কিছুটা কমলেও চুরির মামলা বেড়েছে। তবে মামলার সংখ্যা দিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তার পুরো চিত্র বোঝা যায় না। কারণ হয়রানি বাড়ার ভয়ে হয়রানি, প্রতারণা কিংবা ছিনতাইয়ের সব ঘটনা থানায় নথিভুক্ত না।

আরও পড়ুন

ইনানী সৈকতে গোসলে নেমে তরুণ নিখোঁজ

২৭ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। অথচ এই সৈকতেই গোসল করতে নেমে প্রাণ হারাচ্ছেন পর্যটকরা। প্রবল স্রোত, সমুদ্রের তলদেশে গর্ত, গুপ্তখাল এবং ঢেউয়ের আচরণ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে মুহূর্তেই বিপদে পড়ছেন অনেকে। বিস্তীর্ণ সৈকতের সব এলাকায় সমানভাবে উদ্ধারসেবা না থাকায় দুর্ঘটনার পর দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগও সীমিত।

সি-সেফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের সৈকতের নির্দিষ্ট এলাকায় ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১২ জন, ২০২৫ সালে ২০ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সমুদ্রে বিপদে পড়া ৪৭৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ডুবে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৭৭ জনকে।

প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের মধ্যে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিরাপদে গোসলের জন্য লাইফগার্ডের আওতাভুক্ত এলাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার। সি-সেফের ২৭ জন লাইফগার্ডকর্মী পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। ছুটির দিন, উৎসব ও পর্যটন মৌসুমে যখন সৈকতে মানুষের ঢল নামে, তখন এই সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

আরও পড়ুন

শৈশবের বান্ধবীদের সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণ রূপ নিল বিষাদে

১৯ অক্টোবর ২০২৬

সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাতের ভাষ্য, বিপদের মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি। কয়েক মিনিটের বিলম্বও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। অথচ পর্যটকের চাপ বাড়লেও উদ্ধারসেবার পরিধি ও জনবল পর্যাপ্ত না হলে ঝুঁকি থেকেই যায়।

সমুদ্রসৈকতে গোসলের ঝুঁকির পাশাপাশি প্যারাসেইলিংয়ের মতো বিনোদন কার্যক্রমও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ১ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সাগরে পড়ে মারা যান খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়। ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই সময়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমোদন ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা অমান্য করে তা চালানোর অভিযোগও ওঠে। একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং কার্যক্রমে গত ১০ বছরে অন্তত ১৯ জন পর্যটক আহত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। তাদের কেউ রশি ছিঁড়ে সাগরে পড়েছেন, কেউ ঝাউবাগানে আটকে পড়েছেন, আবার কেউ বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) উপদেষ্টা মফিজুর রহমানের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার কামালের মতে, প্যারাসেইলিংয়ের মতো আকর্ষণীয় বিনোদন আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে পরিচালনা করা জরুরি।

আরও পড়ুন

কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে কিশোরীর মৃত্যু

০৬ অক্টোবর ২০২৬

পর্যটকের নিরাপত্তা শুধু হোটেল, সৈকত কিংবা বিনোদনকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভ্রমণের শুরু থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং ফিরে যাওয়া পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ নিরাপদ হওয়া জরুরি। কক্সবাজারে সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালে জেলার মহাসড়কে ১০৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া রেলপথে পাথর নিক্ষেপের ৫০টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিমের ভাষ্য, নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব পর্যটন ব্যবসায়ও পড়ে। ইনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভের পাশের কিছু রিসোর্টে বুকিং কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শহরের হোটেলগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়ার তথ্যও রয়েছে। অর্থাৎ একটি ঘটনার প্রভাব সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে পড়েনি। তবে নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে পড়লে পুরো পর্যটন গন্তব্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তার মতে, একজন পর্যটক শুধু সমুদ্র দেখতে আসেন না, তিনি নিরাপদে থাকা, নির্বিঘ্নে চলাচল এবং নিশ্চিন্তে বিনোদন উপভোগের নিশ্চয়তাও চান। সেই নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে সাময়িকভাবে পর্যটক আকর্ষণ করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে।

আরও পড়ুন

কক্সবাজারে হোটেলকক্ষে নারীকে জবাই, সামনে ছিল দুই বছরের সন্তান

০১ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলামের অভিযোগ, পর্যটনকে নিরাপদ করতে বিচ্ছিন্ন অভিযান কিংবা দুর্ঘটনার পর তদন্ত যথেষ্ট নয়। অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল-রিসোর্টের তালিকা প্রকাশ, অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই, নিয়ম ভাঙলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে টহল বাড়ানো এবং সৈকতে লাইফগার্ডের পরিধি সম্প্রসারণ জরুরি। অনুমোদনহীন বিনোদন কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্যও জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন।

প্যারাসেইলিং কার্যক্রমে গত ১০ বছরে অন্তত ১৯ জন পর্যটক আহত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। তাদের কেউ রশি ছিঁড়ে সাগরে পড়েছেন, কেউ ঝাউবাগানে আটকে পড়েছেন, আবার কেউ বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন

তার মতে, কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু এতগুলো সংস্থা দায়িত্বে থাকার পরও কেন বারবার নিরাপত্তার ঘাটতি সামনে আসছে, সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিয়মিত পরিদর্শন, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ছাড়া কেবল নির্দেশনা দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সামাজিক সংগঠন আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের ভাষ্য, পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, হোটেল-মোটেল জোন ও নির্জন সড়কে কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথে নিরাপত্তাচৌকি এবং সৈকতে পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়মিত যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রমে প্রশিক্ষিত কর্মী ও মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ রোহিঙ্গা কিশোর

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তার মতে, পর্যটকরাও যাতে সহজে জানতে পারেন কোন হোটেল বা রিসোর্ট অনুমোদিত, কোন বিনোদন কার্যক্রম বৈধ, কোথায় লাইফগার্ডের সহায়তা পাওয়া যায় এবং বিপদে পড়লে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, সে ব্যবস্থা থাকা দরকার। তবে শুধু সতর্কবার্তা কিংবা হটলাইন প্রকাশ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে পর্যাপ্ত জনবল, যানবাহন, যোগাযোগব্যবস্থা ও উদ্ধারসেবা কার্যকর রাখতে হবে।

হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিমের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা। এই শিল্পের বিকাশ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু নিরাপত্তার ঘাটতি পর্যটকের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা ও গন্তব্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আশ্বস্ত করেন, সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে এসে কোনো পর্যটক যেন প্রাণ হারিয়ে কিংবা আতঙ্কের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য না হন, কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে সেভাবে ঢেলে সাজানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারপর্যটনদুর্ঘটনামৃত্যু
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সুইটির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সুইটির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে

    সৌদিতে সুইটি আক্তারের শিরশ্ছেদে মৃত্যুর খবর জানতো না পরিবার

    সৌদিতে সুইটি আক্তারের শিরশ্ছেদে মৃত্যুর খবর জানতো না পরিবার

    ছাত্রলীগে পদ পাওয়ায় জামায়াত সভাপতি বাবা বললেন ‘আগে জানলে ত্যাজ্য করতাম’

    ছাত্রলীগে পদ পাওয়ায় জামায়াত সভাপতি বাবা বললেন ‘আগে জানলে ত্যাজ্য করতাম’

    সৌদিতে শিরশ্ছেদ, গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন নজরুল

    সৌদিতে শিরশ্ছেদ, গ্রেপ্তারের আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন নজরুল

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: দেশে নজরুলের পরিবারে শোকের মাতম, হৃদরোগে ফুফুর মৃত্যু

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: দেশে নজরুলের পরিবারে শোকের মাতম, হৃদরোগে ফুফুর মৃত্যু

    আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি, মূল্য নির্ধারণে ২৫% ছাড়

    আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি, মূল্য নির্ধারণে ২৫% ছাড়

    ইশরাক ইস্যুর মধ্যেই পুলিশকে না জানিয়ে ববি হাজ্জাজের নামে মাদকবিরোধী অভিযান

    ইশরাক ইস্যুর মধ্যেই পুলিশকে না জানিয়ে ববি হাজ্জাজের নামে মাদকবিরোধী অভিযান

    টাইগারের ওপর হামলা, ছুটে গেলেন সাবেক প্রেমিকা দিশা পাটানি

    টাইগারের ওপর হামলা, ছুটে গেলেন সাবেক প্রেমিকা দিশা পাটানি

    রাতে বললেন গুজব, সকালে ভোল পাল্টালেন ইশরাক, দুপুরে দেবেন পদত্যাগের ঘোষণা

    রাতে বললেন গুজব, সকালে ভোল পাল্টালেন ইশরাক, দুপুরে দেবেন পদত্যাগের ঘোষণা

    মুখে বলছে রবীন্দ্রবিরোধী, লিখছে রবীন্দ্রনাথের ভাষায়

    মুখে বলছে রবীন্দ্রবিরোধী, লিখছে রবীন্দ্রনাথের ভাষায়

    মিষ্টি কেনার পথে দুর্ঘটনা, বাড়ি না ফিরে কারাগারে রাবি শিক্ষার্থী রিজন

    মিষ্টি কেনার পথে দুর্ঘটনা, বাড়ি না ফিরে কারাগারে রাবি শিক্ষার্থী রিজন

    মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের যত পদত্যাগ

    মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের যত পদত্যাগ

    মিষ্টি থেকে ইশরাক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জিরো টলারেন্স

    মিষ্টি থেকে ইশরাক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জিরো টলারেন্স

    ৯৭ শতাংশ কাজ হয়ে যাওয়ার পর বাতিল হচ্ছে বিআরটি প্রকল্প

    ৯৭ শতাংশ কাজ হয়ে যাওয়ার পর বাতিল হচ্ছে বিআরটি প্রকল্প

    টাইগারকে গুলির পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুঁশিয়ারি, ‘সালমানের সঙ্গে কাজ করলে ছাড় নয়’

    টাইগারকে গুলির পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুঁশিয়ারি, ‘সালমানের সঙ্গে কাজ করলে ছাড় নয়’