অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণে
পাহাড়তলীর মরণচূড়ায় যে বিদ্রোহ হলো ইতিহাস

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (৫ মে ১৯১১ – ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২)
পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ
দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।
একুশের কবিতায় এভাবেই প্রীতিলতার কথা লিখেছিলেন কবি আল মাহমুদ। ফিরে যাওয়া যাক স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের পাদদেশে, ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব। ব্রিটিশদের প্রমোদকেন্দ্রে হঠাৎ আগুন, গুলি আর আতঙ্ক। ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দলের নেতৃত্বে এক তরুণী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। আক্রমণে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগেই মুখে তুলে নেন পটাশিয়াম সায়ানাইড। আত্মসমর্পণ নয়, মৃত্যুকেই বেছে নেন তিনি। এভাবেই ‘বাংলার প্রথম নারী শহীদ’ হিসেবে আত্মাহুতি দেন প্রীতিলতা।
তবে এই মৃত্যু এক রাতের বীরত্বের গল্প নয়। উপমহাদেশের অগ্নিযুগের বিপ্লবী আন্দোলনে নারীরা যখন সরব হয়ে উঠছিলেন, প্রীতিলতা ছিলেন সেই ধারার অন্যতম উজ্জ্বল নাম। স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, আশালতা সেন, সরোজিনী নাইডু, ননী বালা, দুকড়ি বালা থেকে পরবর্তীকালে ইন্দুমতী দেবী, লীলা রায় ও সাবিত্রী দেবী, তাঁদের পথ ধরেই এসেছিলেন প্রীতিলতা।
প্রীতিলতার জন্ম ১৯১১ সালের ৫ মে। মৃত্যু ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। মাত্র ২১ বছরের জীবন। কিন্তু এই ছোট্ট জীবনের মধ্যেই তিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী হয়ে ওঠেন।
চট্টগ্রামে তখন গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পর বিপ্লবীরা আবার সংগঠিত হচ্ছিলেন। ১৯২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর টাইগার পাসের মোড়ে সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠনের সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের বেতনের ১৭ হাজার টাকা ছিনতাই করেন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর একটি গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশ হানা দিলে সূর্য সেন ও অম্বিকা চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হন। তাঁদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে ডাকাতি মামলা হয়। এ ঘটনা কিশোরী প্রীতিলতার মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
স্কুলের প্রিয় শিক্ষক ঊষাদির সঙ্গে আলোচনায় তিনি মামলার খুঁটিনাটি জানতে পারেন। ঊষাদির দেওয়া ‘ঝাঁসীর রাণী’ বইটি পড়ে লক্ষ্মীবাইয়ের জীবন তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করে। ১৯২৪ সালে বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স আইনে বিপ্লবীদের বিনা বিচারে আটক করা শুরু হয়। সরকার বিপ্লবীদের প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেয়। প্রীতিলতার নিকটাত্মীয় পূর্ণেন্দু দস্তিদার বাজেয়াপ্ত কিছু গোপন বই তাঁর কাছে রাখেন। লুকিয়ে লুকিয়ে প্রীতিলতা পড়েন ‘দেশের কথা’, ‘বাঘা যতীন’, ‘ক্ষুদিরাম’ ও ‘কানাইলাল’।
তখনো বিপ্লবী দলে নারী সদস্য নেওয়া হতো না। এমনকি নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশাও বিপ্লবীদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু প্রীতিলতা সেই প্রাচীর ভাঙার স্বপ্ন দেখছিলেন।
ঢাকায় পড়তে এসে প্রীতিলতা যুক্ত হন ‘শ্রীসংঘ’ নামের বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে। এর নারী শাখা ছিল ‘দীপালী সঙ্ঘ’। এর নেতৃত্বে ছিলেন লীলা নাগ, যিনি পরবর্তীকালে লীলা রায় নামে পরিচিত হন। নারীশিক্ষা প্রসারের আড়ালে তাঁরা গোপনে মেয়েদের বিপ্লবী সংগঠনে যুক্ত করার কাজ করতেন। ইডেন কলেজের শিক্ষক নীলিমাদির মাধ্যমে প্রীতিলতার সঙ্গে লীলা রায়ের পরিচয় হয়। দীপালী সঙ্ঘে যোগ দিয়ে তিনি লাঠিখেলা ও ছোরাখেলাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেন।
পরে প্রীতিলতা লিখেছিলেন, ‘আই এ পড়ার জন্য ঢাকায় দু’বছর থাকার সময় আমি নিজেকে মহান মাস্টারদার একজন উপযুক্ত কমরেড হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছি।’
১৯২৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে সূর্য সেন ও তাঁর সহযোগীরা কংগ্রেসের জেলা সম্মেলন, ছাত্র সম্মেলন ও যুব সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা নেন। নারী সম্মেলনের পরিকল্পনা ছিল না। পূর্ণেন্দু দস্তিদারের উৎসাহে পরে সূর্য সেন তাতে সম্মতি দেন। মহিলা কংগ্রেস নেত্রী লতিকা বোসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই সম্মেলনে প্রীতিলতা ঢাকা থেকে এবং কল্পনা দত্ত কলকাতা থেকে এসে যোগ দেন। দুজনেরই ইচ্ছা ছিল সূর্য সেনের অধীনে চট্টগ্রামের বিপ্লবী দলে যুক্ত হওয়া। কিন্তু সে সময় তাঁদের সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
১৯৩০ সালের ১৯ এপ্রিল আইএ পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন প্রীতিলতা। এর আগের রাতেই চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের দীর্ঘ পরিকল্পিত আক্রমণে ধ্বংস হয় অস্ত্রাগার, পুলিশলাইন, টেলিফোন অফিস ও রেললাইন। এটি ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ নামে পরিচিতি পায়। এই বিদ্রোহ সমগ্র বাংলার ছাত্রসমাজকে উদ্দীপ্ত করে।
প্রীতিলতা লিখেছিলেন, ‘পরীক্ষার পর ঐ বছরেরই ১৯শে এপ্রিল সকালে বাড়ি ফিরে আমি আগের রাতে চট্টগ্রামের বীর যোদ্ধাদের মহান কার্যকলাপের সংবাদ পাই। ঐ সব বীরদের জন্য আমার হৃদয় গভীর শ্রদ্ধায় আপ্লুত হল। কিন্তু ঐ বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে না পেরে এবং নাম শোনার পর থেকেই যে মাষ্টারদাকে গভীর শ্রদ্ধা করেছি তাঁকে একটু দেখতে না পেয়ে আমি বেদনাহত হলাম।’
এরপর প্রীতিলতা কলকাতার বেথুন কলেজে পড়তে যান। যুব বিদ্রোহের পর তিনি মধ্য কলকাতায় বিপ্লবী মনোরঞ্জন রায়ের পিসির বাসায় আশ্রয় নেন। তাঁর দাদা পূর্ণেন্দু দস্তিদার তখন যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। পূর্ণেন্দু পুলিশের হাতে ধরা পড়লে মনোরঞ্জন রায়, যিনি ‘ক্যাবলা দা’ নামে পরিচিত ছিলেন, নারী বিপ্লবীদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন।
যুব বিদ্রোহের পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী নেতাদের সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা সূর্য সেনের যোগাযোগ চলছিল। তাঁরা আরও হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। শহর ও গ্রামের যুবকেরা তখন পুলিশের কাছে সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন। তাই সূর্য সেন নারী বিপ্লবীদের এসব কাজে যুক্ত করার প্রয়োজন অনুভব করেন। কারণ, গোয়েন্দা বিভাগ তখনো মেয়েদের তেমন সন্দেহ করত না।
প্রীতিলতার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের বর্ণনায় সূর্য সেন লিখেছেন, ‘তার চোখেমুখে একটা আনন্দের আভাস দেখলাম। এতদূর পথ হেঁটে এসেছে, তার জন্য তার চেহারায় ক্লান্তির কোনো চিহ্নই লক্ষ্য করলাম না।’ তিনি আরও লিখেছেন, প্রীতিলতার ‘অ্যাকশন’ করার আগ্রহ স্পষ্ট ছিল। বসে বসে সংগঠনের কাজ করার প্রতি তাঁর প্রবৃত্তি ছিল না। তিন দিন ধলঘাট গ্রামে সাবিত্রী দেবীর বাড়িতে অবস্থানকালে প্রীতিলতা আগ্নেয়াস্ত্র চালনা ও লক্ষ্যভেদের প্রশিক্ষণ নেন।
চট্টগ্রামে সূর্য সেনের কাছে বোমা পৌঁছে দিয়ে কলকাতায় ফেরার এক দিন পরেই মনোরঞ্জন রায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৩০ সালের ২ ডিসেম্বর চাঁদপুর রেলস্টেশনে রিভলবার নিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। কিন্তু ভুল করে মি. ক্রেগের পরিবর্তে চাঁদপুরের এসডিও তারিণী মুখার্জি নিহত হন। সেদিনই পুলিশ বোমা ও রিভলবারসহ রামকৃষ্ণ বিশ্বাস ও কালীপদ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে। তারিণী মুখার্জি হত্যা মামলায় রামকৃষ্ণের মৃত্যুদণ্ড এবং কালীপদকে নির্বাসন দণ্ড দেওয়া হয়।
আলিপুর জেলের ফাঁসির সেলে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা রামকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রাম থেকে তাঁর আত্মীয়দের কেউ আসতে পারতেন না। মনোরঞ্জন রায় প্রীতিলতাকে চিঠি লিখে রামকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করেন। প্রীতিলতা ‘অমিতা দাস’ ছদ্মনামে ‘কাজিন’ পরিচয়ে আলিপুর জেল কর্তৃপক্ষের কাছে দরখাস্ত করেন। অনুমতি পেয়ে তিনি প্রায় ৪০ বার রামকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করেন। ১৯৩১ সালের ৪ আগস্ট রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসি হয়।
এই ঘটনা প্রীতিলতার জীবনে আমূল পরিবর্তন আনে। তাঁর ভাষায়, ‘রামকৃষ্ণদার ফাঁসীর পর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার অনেক বেড়ে গেল।’
রামকৃষ্ণের ফাঁসির পর প্রায় নয় মাস বিএ পরীক্ষার জন্য প্রীতিলতাকে কলকাতায় থাকতে হয়। পরীক্ষা দিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে দেখেন, তাঁর বাবার চাকরি নেই। সংসারের অর্থকষ্ট মেটাতে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেন তিনি। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট দানশীল ব্যক্তি অপর্ণাচরণ দের সহযোগিতায় নন্দনকাননে প্রতিষ্ঠিত হয় নন্দনকানন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, যা বর্তমানে অপর্ণাচরণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নামে পরিচিত। প্রীতিলতা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।
১৯৩২ সালে বিএ পরীক্ষার পর সূর্য সেনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন কল্পনা দত্তের কাছে। মাষ্টারদা সেই সাক্ষাতে কল্পনা দত্তের কাছে প্রীতিলতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এর মধ্যে সংগঠন চালানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। সংসারের খরচ চালানোর জন্য প্রীতিলতার বাবা তাঁর মাসিক বেতনের পুরো টাকা তাঁর হাতে দিতেন। প্রীতিলতা সেই টাকা সংগঠনের কাজে দিতে চাইলেন। কিন্তু কল্পনা দত্ত আপত্তি করলে প্রীতিলতা কেঁদে বলেন, ‘গরিব দেখে আমাদের টাকা নিতে চান না। আমি যে নিষ্ঠাবান কর্মী হতে পারব তার প্রমাণ করার সুযোগও কি আমায় দেবেন না?’
প্রীতিলতার প্রবল আগ্রহের কারণে কল্পনা দত্ত এক রাতে গ্রামের একটি ছোট্ট কুটিরে তাঁর সঙ্গে নির্মল সেনের পরিচয় করিয়ে দেন। ১৯৩২ সালের মে মাসের গোড়ার দিকে সেই সাক্ষাতে নির্মল সেন প্রীতিলতাকে পরিবারের প্রতি তাঁর কতটা টান আছে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘টান আছে। কিন্তু duty to family-কে duty to country-র কাছে বলি দিতে পারব।’
এরপর প্রীতিলতা সূর্য সেনের নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী দলে যুক্ত হন। তাঁর ভাষায়, ‘মাতৃভূমির মুক্তির জন্য যেকোনো দুরূহ বা ভয়াবহ ব্যাপারে ভাইদের পাশাপাশি দাঁড়াইয়া সংগ্রাম করিতে তাহারা ইচ্ছুক, ইহা প্রমাণ করিবার জন্যই আজিকার এই বিপদসঙ্কুল অভিযানের (ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ) নেতৃত্ব গ্রহণ করিতেছি।’
পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে ১৯৩২ সালের সশস্ত্র আক্রমণে ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দলের নেতৃত্ব দেন প্রীতিলতা। আক্রমণে একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। মূলত ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম পরিকল্পনা ছিল পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ। কিন্তু গুড ফ্রাইডের কারণে সেদিন তা সফল করা যায়নি।
চট্টগ্রাম শহরের উত্তরদিকে পাহাড়তলী স্টেশনের কাছে এই ক্লাবটি ছিল ব্রিটিশদের প্রমোদকেন্দ্র। পাহাড়ঘেরা ক্লাবটির চারপাশে প্রহরীদের অবস্থান ছিল। বিপ্লবীরা ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগেই পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রীতিলতা পটাশিয়াম সায়ানাইড মুখে তুলে নেন। কালীকিংকর দের কাছে তিনি তাঁর রিভলবারটি দিয়ে আরও পটাশিয়াম সায়ানাইড চাইলে কালীকিংকর তা তাঁর মুখে ঢেলে দেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন প্রীতিলতা।
অদম্য উদ্যম আর প্রচণ্ড সাহস বুকে ধারণ করে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য সেই অগ্নিযুগে কিছু মুক্তিপাগল মানুষ জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে সেদিন সামিল হয়েছিলেন চট্টগ্রামের বীরকন্যা প্রীতিলতা।
দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যে সশস্ত্র বিপ্লবী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছিল, সেই ইতিহাসে প্রীতিলতা অন্যতম এক নাম। তিনি শুধু নারী বিপ্লবের প্রতীক নন, তিনি এমন এক দৃষ্টান্ত, যা দেখায় সাহসের কোনো লিঙ্গ হয় না, দেশপ্রেমের কোনো বয়সসীমা হয় না।
আজও স্বাধীনতা, সাম্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে মানুষ যখন রাস্তায় নামে, তখন প্রীতিলতার সেই প্রশ্নটি ফিরে আসে, ‘পরিবারের টান আছে, কিন্তু দেশের ডাক কি তার চেয়ে বড় নয়?’








