Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
গরিবের চিকিৎসায় নিবেদিত হাফিজুর
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় স্মরণ

কেন্দ্রে পাওয়া আমীরুল

মাহফুজা শীলু
agamir somoy
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৭
কেন্দ্রে পাওয়া আমীরুল

আমীরুল ইসলাম (৭ এপ্রিল ১৯৬৪- ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। আঁকা: অরবিন্দ হালদার

বিষণ্ণ ও কাতর মন নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গিয়েছিলাম প্রিয় আমীরুলকে বিদায় জানাতে। এর মধ্যে ওর সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয়নি। তবে খোঁজ-খবর পেতাম। শরীর ভালো নেই সেটাও জানতাম। কিন্তু কেন যে নিজে ফোন করে ওর খবর নিইনি, জানি না। জীবনের নানা বাঁকে, নানা জনের আগমন ঘটে। এক সময়ের প্রিয় মানুষের প্রিয় সঙ্গ না পেলেও জীবন দিব্যি চলে যায়!

একটা সময় ছিল প্রায় প্রতিদিন কেন্দ্রে যেতাম। কেন্দ্রে যাওয়া একটি মধুর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। সেটা আশির দশকের শেষভাগ। ততদিনে আমাদের কাছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র শুধু কেন্দ্রে এসে ঠেকেছে। পুরো নাম আর বলতে হয় না। কেন্দ্র বললেই লোকে চিনে ফেলে। প্রথম যখন বন্ধু আলম খোরশেদ আমাকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়, তখন আমরা আজিমপুর কলোনিতে থাকি। সেখান থেকে বাবা মারা যাওয়ার পরে কাঁঠালবাগান চলে আসি। কেন্দ্র ছিল তখন নিতান্তই হাঁটাপথ। আবিদ আজাদের ‘শিল্পতরু’র পাশ দিয়ে উঠে, রাস্তা ক্রস করে বাঁয়ে গিয়ে কিছুটা হেঁটে ডানে গিয়ে আবার ডানে মোড় নিলেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সঙ্গে কেউ না থাকলেও বিকেলের দিকে কখনও হেঁটে, কখনও রিকশার হুট ফেলে বেশ একটা আরামের ভঙ্গিতে বসে চলে যেতাম কেন্দ্রে। বিজ্ঞাপনে মুখ ঢেকে যাওয়া তখনও শুরু হয়নি। তখন রাস্তাঘাট ছিমছাম। এমন অসহ্য ভিড় ছিল না। অনেক দূর দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষকে দেখা যেত অনায়াসে।

কেন্দ্রে গেলে কাকে পাব আর কাকে পাব না, সেসব নিয়েও মাথা ঘামাতাম না একদমই। মাযহার, আমীরুল, কখনও রিটনকে পেয়েই যেতাম।

একদিন কথা প্রসঙ্গে জানলাম, ‘বনে বাদাড়ের’ লেখক হাবিবুর রহমান আমীরুলের চাচা। মনে আছে, খুব বিস্মিত হয়েছিলাম কেন যেন। এই বইটি আমার কাছে বিশেষ। সেই কারণটিও বিশেষ।

আমরা তখন মানিকগঞ্জে থাকি। বন্ধু দীপার জন্মদিনে যাবো কিন্তু কী উপহার দেবো জানি না। সেই বয়সে, সম্ভবত ক্লাস ফোরে পড়ি, কিছু যে দিতে হয় জন্মদিনে, সেটা জানি! কিছুটা মনখারাপ নিয়েই যাই দীপার জন্মদিনে উপহারহীন। বিকেলের দিকে দেখি আমার বড়ভাই ফেরদৌস সাজেদীন, চাচাতো ভাই সাফীকে দিয়ে একটি বই সুন্দর কাগজে মুড়িয়ে দীপাদের বাসায় পাঠিয়েছে। বইটি ছিলো লেখক হাবিবুর রহমানের ‘বনে বাদাড়ে।’ অনেক পরে যখন জেনেছিলাম হাবিবুর রহমান আমীরুলের চাচা, তখন অজান্তেই আমীরুলকে যেন একটু বেশিই আপন ভাবতে শুরু করি।

প্রথমদিকে কেন্দ্রের মেম্বার হয়ে শুধু বই আনতাম, পড়তাম আর ওদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। তারপর স্বরিত আবৃত্তিচক্রে যোগ দিই কামরুল হাসান মঞ্জু ভাইয়ের নেতৃত্বে। যার রিহার্সেল হতো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। সেসব ছিলো নির্মল আনন্দের দিন। অনেক রাত করে কেন্দ্রের গানের অনুষ্ঠানও শুনেছি দু’একবার।

এক বসন্তের বিকেলে বেশ একটা লাল-হলুদে লেপ্টানো শাড়ি পরে কেন্দ্রে গেছি। আর বরাবরের মতো গাছের নিচে ছোট্ট চাতালে বসে চেনা কারও সঙ্গে গল্প করছি। কোত্থেকে আমীরুল এসে বলা শুরু করলো, আপনাকে আজকে খুব উজ্জ্বল লাগছে — ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর বললো, আজকের গানের অনুষ্ঠানটি আপনি উপস্থাপনা করবেন। কোনো কথা হবে না। আমি যারপর নাই বিস্মিত ও বিব্রত। ও কোনো কথাই শুনলো না। প্রায় জোর করে নিয়ে গেল মঞ্চে। শিল্পী ছিলেন মিতা হক। মিতা হকও তখন নবীন শিল্পী। আমার সঙ্গে কিঞ্চিৎ পরিচয় ছিলো। আমীরুলের অনুরোধের ঢেঁকি গিলে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছিলাম শেষ পর্যন্ত। অনুষ্ঠান শেষে জানতে পারি, অনুষ্ঠানের নির্ধারিত উপস্থাপক আসেননি বলে আমাকে অতটা জোর-জবরদস্তি করে মঞ্চে উঠিয়েছিলো। আর আমাকে কতটা ভালো লাগছে বলে মন ভেজানোর চেষ্টাও করেছিল! সেদিন আমার একটু অস্বস্তি হয়েছিল যেমন, ওদের ওপর বেশ রাগও হয়েছিল। পরে সেটা কবে ভুলে গেছি মনেও নেই। এত সহজ-সুন্দর ছিলো ওদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। দিনগুলো ছিলো নিবিড় উষ্ণ বন্ধুত্বে ঘেরা। অনেকদিন হয়ে গেল। স্মৃতির ধুলো জমেছে সময়ে। সম্পর্কে নয়।

আমি যখন নব্বইয়ের দশকের শেষ ধাপে নিউ ইয়র্ক চলে যাই বেশ দীর্ঘদিনের জন্য তখন আহমেদ মাযহারের সঙ্গে মোটামুটি নিয়মিতই চিঠিতে যোগাযোগ ছিলো। আমীরুলের চিঠিও পেয়েছিলাম কী না মনে করতে পারছি না। দেখা হলে একটা টান অনুভব করতাম। দেখা না হলেও সেই টানে কখনও টান পড়তো না। একবার চ্যানেল আইয়ের কোন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে আমীরুলের আমন্ত্রণে গিয়ে আমীরুলের সঙ্গে বসে অনেকক্ষণ গল্প করেছিলাম মনে পড়ে। মনে পড়ে, আসার সময় ওর লেখা একগুচ্ছ বই উপহার দিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ঢাউস তিনখণ্ডের ছড়া রচনাবলীও ছিলো। এখন খুঁজতে গিয়ে তিন নম্বরটি পেলাম অন্যান্য বইয়ের ভিড়ে। বাকি দুটি দেখতে পেলাম না বুকশেলফে। হয়তো অন্য কোনো ঘরে রেখেছি। বই চুরি হওয়ার দিন বুঝি গেছে! বই নয়, এখন প্রায় সকলেই মোবাইল ফোনে হামলে পড়ে থাকে। (আমি নিজেও)

বইও পড়ে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে। বই কেনা, লাইব্রেরি থেকে আনা বা অন্যের কাছ থেকে ধার করে বই আনা আজকাল বোধকরি তেমন হয় না। আমি এই কথাটি কিছুটা অনুমান করেই বললাম।

আমীরুলের বইগুলি খুঁজতে গিয়ে দেখতে পেলাম— ‘তালগাছ দুইপায়ে দাঁড়িয়ে’, ‘বৃষ্টি নিয়ে বিশটি গল্প’
‘ছড়া মানে শীত বসন্ত, ছড়া মানে বৃষ্টি’ বইগুলি। শেষের বইটির পাতা উল্টাতে গিয়ে দেখতে পেলাম এই বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি। মনে পড়লো চন্দ্রাবতী একাডেমির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রয়াত সুবলকুমার বণিক। লেখক এবং সম্পাদক। একদা সুবলদা আর আমি বছর কয়েক আগে ব্র্যাক থেকে প্রকাশিত শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘সাতরং’ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। দাদা ছিলেন সম্পাদক। আমি সহযোগী সম্পাদক। সম্পাদনার পাশাপাশি আমার আরও একটি দায়িত্ব ছিলো লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি ভালো লেখা আদায় করা।

লুৎফর রহমান রিটন, খালেদ হোসাইন, আহমেদ মাযহার, আমীরুল ইসলাম, মনি হায়দার, আলতাফ হোসেন, আলম খোরশেদ, মিনার মনসুর, রোকেয়া খাতুন রুবীসহ আরও বহুজন লিখেছেন সাতরং পত্রিকায়।

আরও পড়ুন

ভালো আছি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখি

২৪ জুলাই ২০২৬

আমীরুল যে আর দশজন মানুষ বা লেখকের মতো সাধারণ ছিলো না তার অন্যতম কারণ বোধহয় তার শৈশবের বেড়ে ওঠার পরিবেশ। মেধাবী আমীরুল আর দশজনের মতো হবে না সেটাই স্বাভাবিক। আমীরুল ছিলো অকপট। কথায় এবং জীবনযাপনে ।পুরান ঢাকার আমীরুল ছিলো আজিমপুরের বিখ্যাত ওয়েস্ট-এন্ড হাইস্কুলের ছাত্র। সেই স্কুল নিয়েও ৬৩ পৃষ্ঠার একটি বই রয়েছে আমীরুলের। এইসব স্মৃতিগদ্য বরাবরই আমাকে খুব আকর্ষণ করে। না-দেখা সময়টাকে, সেই সময়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা মানুষগুলোকে এইসব স্মৃতির ট্রেনে যেন চড়িয়ে দেয় কেউ। লেখকের সঙ্গে পাঠকও বুঝি টিকিট ফাঁকি দিয়ে, অদৃশ্য হয়ে একই ট্রেনে চেপে বসে!

আমীরুলের নানা বই খুঁজতে গিয়ে অনেকটা সময় আমীরুলের সঙ্গেই যেন কাটলো। আমাকে ভীষণ রকমের চমকে দিয়ে হঠাৎই শাহীন বুকশেলফ থেকে এই অমূল্য বইটি বের করে দেয়। আমি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম বইটির কথা! এত বইয়ের ভিড়ের ভিতর থেকে বইটি বের করে আনায় আমি যুগপৎ খুশি এবং তাজ্জব বনে যাই।
ছবি: লেখকের সৌজন্যেছড়ার বইটির নাম ‘সার্কাসের বাঘ’। একটি ডোরাকাটা বাঘ ছাতা ধরে আছে মাথায়। দূর থেকে দর্শকরা তা দেখছে। হাসেম খানের আঁকা প্রচ্ছদ। সুন্দর একটি ফুল এঁকে, সাথে কয়েকলাইন কবিতা লিখে বইটি আমাকে উপহার দিয়েছিল আমীরুল।
“মাধবীর কানে কানে
বাতাস কহিল মৃদু রবে
নিজেরে চেন না তুমি
আমরা তোমারে চিনি সবে।”

কবিতার শেষ লাইনটি আজ বহুদিন পরে ফিরিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে ‘আমরা তোমারে চিনি সবে।’
‘তালগাছ দুইপায়ে দাঁড়িয়ে’ কাব্যগ্রন্থে ‘আমীরুল’ নাম দিয়ে একটি ছড়া আছে। ২০১৭ সালে লেখা।
“নাইরে সাধন
নাইরে ভজন
কী করি বর্ণন।
ঘুরতে ঘুরতে উড়তে উড়তে
কাটল রে জীবন
ভাবনা নাই চিন্তা নাই
ওহে আমীরুল
সাধন মনে হাঁটতে গিয়ে
ভুল হয়ে যায় ভুল।”

এই যে আমীরুল প্রথাগতভাবে সংসার করেনি, জীবনটাকে নিজের ইচ্ছেমতো চালিয়েছে, উদ্দাম, অনিয়ন্ত্রিত, বেহিসেবি— এসব ভুল কি না জানি না; তবে নিয়মের বাইরে হাঁটলে একটু মাসুল বোধহয় সকলকেই দিতে হয়। অবশ্য আমীরুলকে মাসুলটা একটু বেশিই দিতে হলো। নিচের এই ছড়াটির মতো কি ছিল আমীরুলের জীবন?

‘ঘড়ি আমার ভাল্লাগে না
ঘড়ির কাঁটায় চলব না
ঘড়ি যখন বলবে কথা
তখন আমি বলব না
ঘড়ির আদেশ নিষেধ বাঁধা
আর তো আমি শুনব না
ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে ঘুরুক
সময়টা গুনব না।”

নিয়ম মানেনি সম্ভবত খাদ‍্যে । আর অন্য সবকিছুতে নিয়ম না মানলে একজীবনে এত কাজ করতে পারে! বইপড়া, দুর্লভ বই ও চিত্রকলা সংগ্রহ, দাবা খেলা, নানারকম রান্না করা ছিলো আমীরুলের পছন্দ। কৌতুকপ্রিয় ও আড্ডাবাজ হিসেবেও ছিলো তার ব্যাপক পরিচিতি। এর মধ্যেও মৃত্যু চেতনা তাকে ঘিরে রেখেছিল। ‘ছড়া মানে শীত বসন্ত ছড়া মানে বৃষ্টি’ গ্রন্থের একটি ছড়ায় লিখেছে—

‘কত শত ছড়া টড়া
লিখে-টিকে
দিন গেল।
কত কথা বলে বলে
দিন গেল
কতকিছু করে করে দিন গেল
জীবনের নদী তীরে
পূর্ণতা নিয়ে আমি
হাত তুলে
আকাশকে বলি আজ
দিন গেল।
দিন গেল
দিন গেল।’

এই ছড়াটি লেখা ২০১৭ সালে।

আমীরুল একজন খোলা মনের মানুষ। কিছুই লুকায়নি। তার ছেলেবেলার আনন্দ নিয়ে যেমন লিখেছে। লিখেছে সেই সময়ের সীমাহীন দারিদ্র্যের কথাও। ‘ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুল’ বইটি তার সম্পর্কে লেখার ফাঁকে ফাঁকে মুগ্ধ হয়ে পড়লাম।

তার বেড়ে ওঠার সময়ের পুরান ঢাকার বর্ণনা এই বই থেকেই কিছুটা তুলে দিচ্ছি—

“লাট্টু, ডান্ডাগুলি, মার্বেল মাটির উঠোন ছাড়া খেলা যায় না। শাহ সাহেব বাড়ি আমাদের সেই অবারিত স্বাধীনতা দিয়েছিল। অবশ্য তখন পুরান ঢাকার বাড়িগুলোতে মাটির কিছুটা উঠোন বা ফাঁকা জায়গা থাকতোই। থাকতো কিছু গাছগাছালি। কিছু ঝোপঝাড়। নয়নতারা, সূর্যমুখী, মোরগফুল গাছ। এসব বাড়িতে বাড়িতে দেখা যেত। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়া খুব সহজ ছিল। থাকতো কোন চিপাগলি। কিংবা কোনো দেয়াল। কিংবা কোন গাছের ডাল বেয়ে চলে যাওয়া যেত অন্যবাড়িতে। প্রত্যেক বাড়িতেই থাকতো শিশু-কিশোরদের অবারিত প্রবেশ অধিকার। কেউ সামান্য বকা পর্যন্ত দিতো না। এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে লাফিয়ে লাফিয়ে কত হই-হুল্লোড় করেছি— কেউ শাসন করতো না সে আমলে।”

এখানেই নিজের সম্পর্কে লিখেছে— ‘আমি ছিলাম মোটা ও গোলগাল ।থলথলে। দাপদুপ করে হাঁটতাম। থপথপ করে লাফাতাম। অতি শক্তিশালী খেলা হাডুডুতে আমার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব ছিল না।’ তবে দাবা খেলায় আমীরুল ছিল পারদর্শী।

এই বইয়ের এক জায়গায় লিখেছে— ‘শুরুতে বলেছিলাম খেলতে খেলতে জীবন শুরু হয়। কিন্তু এখন বলতে ইচ্ছে করছে— খেলতে খেলতেই জীবনটা শেষ হয়ে গেল।’

একজন মানুষকে আড্ডায় যেমন চেনা যায়, তাঁর লেখাতেও তেমনি ফুটে ওঠে নিজের অস্তিত্ব ও ভাবনার নানাদিক।


আমীরুল পুরান ঢাকার ছেলে। পুরান ঢাকা নানারকমের দালানকোঠা, দোকানপাট, খাওয়া-দাওয়ায় মোঘলায়ি ব‍্যাপার নিয়ে বরাবরই অন‍্যরকম ও অনন্য । আমীরুল নিজের ভেতরেও বোধকরি এসব লালন করতো । কই যাইতাছি’ নামে এই ঢাকাই্যা পোলার একটি ছড়া রয়েছে।

“কই চল্লি
গুলিস্তানে।
তার বাদে কই
আরামবাগে।
তার বাদে কই
সদরঘাটে।
তার বাদে কই
চকবাজারে।
তার বাদে কই
চুড়িহাট্টা
তার বাদে কই
আমলিগোলা
তার বাদে কই
ইমামগঞ্জে
তার বাদে কই
নবাববাড়ি
তার বাদে কই
হাজারিবাগ
তার বাদে কই
মোগলটুলি
তার বাদে কই, নবাবপুরে
তার বাদে কই
যাইতে যাইতে
যাইতে যাইতে
কই যামু আর —
আজিমপুরা
গোরেস্তানে।”

নিজের প্রিয় স্থানের নামগুলি বলতে বলতে শেষে সকলের শেষ ঠিকানার কথাও কী অনায়াসে বলে গেছে! আমীরুলের মতো জীবনবাদী মানুষ, জীবনকে ষোলআনা ভালোবাসা মানুষ শেষের দিকে মৃত্যুকে সাথে নিয়ে হাঁটছিল যেন। পুরান ঢাকাকে নতুন করে চিনিয়েছে আমীরুল। ঐতিহ্য, স্মৃতি এসবই সম্পদ। দেশের। দশের। দেশের সম্পদ ছিলো আমীরুল নিজেও।আমীরুলের কণ্ঠে, কথা বলার ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল যে ও মুহূর্তেই আপন হয়ে উঠতো। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গিয়ে আমীরুলকে দেখলাম শেষ যাত্রার আগে। কেবল শুনতে পেলাম না আমীরুলের সদাপ্রসন্ন কণ্ঠটি—

‘আইছেন নাকি।’

আমীরুল ইসলাম
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    বিদেশি ফার্নিচার ও কর্মকর্তাদের সম্মানী নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি ফার্নিচার ও কর্মকর্তাদের সম্মানী নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

    ‘হেসে কথা বলল, পরদিন শুনি আইসিইউতে’

    ‘হেসে কথা বলল, পরদিন শুনি আইসিইউতে’

    বদলে যাচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ

    বদলে যাচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ

    গ্যাসে সাময়িক স্বস্তি, বেড়েছে লোডশেডিং

    গ্যাসে সাময়িক স্বস্তি, বেড়েছে লোডশেডিং

    গেটে জং ধরা তালা, কাঁটাতার সরিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমপি

    গেটে জং ধরা তালা, কাঁটাতার সরিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমপি

    নিগারের ঘোষণায় অস্থিরতা তারপরও ক্রিকেটে চোখ

    নিগারের ঘোষণায় অস্থিরতা তারপরও ক্রিকেটে চোখ

    পলাতক কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য পাচারে ২০০ পুলিশ!

    পলাতক কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য পাচারে ২০০ পুলিশ!

    হামের ধকল থেকে অপুষ্টির কবলে ৭ মাসের আয়ান

    হামের ধকল থেকে অপুষ্টির কবলে ৭ মাসের আয়ান

    গ্যাস বাড়তেই শিল্পে উৎপাদন ৭০ শতাংশ

    গ্যাস বাড়তেই শিল্পে উৎপাদন ৭০ শতাংশ

    গরিবের চিকিৎসায় নিবেদিত হাফিজুর

    গরিবের চিকিৎসায় নিবেদিত হাফিজুর

    ১০ লাখ কোটির রূপরেখা

    ১০ লাখ কোটির রূপরেখা

    জিপিএ ৫ পেয়েও কলেজে মনোনয়ন পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী

    জিপিএ ৫ পেয়েও কলেজে মনোনয়ন পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী

    নিউ ইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করছেন তারেক রহমান, নিচ্ছেন না সংবর্ধনা

    নিউ ইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করছেন তারেক রহমান, নিচ্ছেন না সংবর্ধনা

    ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে দূতাবাস চালু করবে মরক্কো

    ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে দূতাবাস চালু করবে মরক্কো

    সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোয় তানিমকে হত্যা করা হয়

    সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোয় তানিমকে হত্যা করা হয়