জাতিসংঘে লাক্রোয়ার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
শান্তিমিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদারের আহ্বান

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার। তাই নতুন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) মোতায়েন এবং জাতিসংঘের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গতকাল সোমবার জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনসের (ডিপিও) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেছেন। আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান, র্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল (আরডিএল) যাচাইকরণ, কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের পর নতুন মিশনে প্রতিস্থাপন, জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পদে বাংলাদেশিদের নিয়োগ, ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) মোতায়েন এবং বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ এ পর্যন্ত ২৬টি দেশের ২৭টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। শীর্ষ পুলিশ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দুটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটের আরডিএল যাচাইকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে জাতিসংঘ পুলিশ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক সরঞ্জাম, নিজস্ব রসদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশিক্ষিত জনবলসমৃদ্ধ ইউনিট দুটির যাচাইকরণ দ্রুত সম্পন্ন করতে ডিপিওর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১৮০ সদস্যের বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বললেন, ‘অন্যান্য দেশের ইউনিটগুলো আনুপাতিক হারে কমানো হলেও কেবল বাংলাদেশের পুরো ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়েছে। যা সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ সুদান, আবেয়ি অথবা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নতুন একটি বাংলাদেশি এফপিইউ মোতায়েনের অনুরোধ জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনের পি-লেভেল ও ডি-লেভেলের নীতিনির্ধারণী পদে আরও বেশি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত। পরিবর্তিত বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে দক্ষ নারী ও পুরুষ কর্মকর্তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিলেকশন অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম (সাট) পরীক্ষায় ১০৭ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা উত্তীর্ণ হলেও এখনো ৮৫ জন নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিশেষ করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি আইপিওদের দ্রুত মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পরবর্তী সাট পরীক্ষা আয়োজনেও জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
জবাবে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি কঙ্গো মিশনে ভারসাম্য ও সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনে জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।




