বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর সুবিধা দেবে সরকার

ফাইল ছবি
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে আয়কর অব্যাহতি এবং কর রেয়াত সুবিধা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো গত ৩০ জুন ২০২৫ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি পাবে। এই সুবিধা আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং এ বিষয়ে অচিরেই জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কর সুবিধা পেতে হলে প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৪’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানির অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর সঙ্গে সম্পাদিত পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টের (পিপিএ) আওতায় সরবরাহ করতে হবে। তবে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে বহাল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবহারের জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করলে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ মোট প্রদেয় আয়করের বিপরীতে কর রেয়াত হিসেবে পাবে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও আমদানি-নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সরকারের এই উদ্যোগ।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তাফা আল মাহমুদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কর প্রণোদনার দাবি ছিল। নতুন এ উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা দেবে বিনিয়োগকারীদের। ইতোমধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কর সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুতের খরচ কমার পাশাপাশি কমবে কার্বন নিঃসরণও।’
২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন, যার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হচ্ছে বেসরকারি খাতে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে শিল্প খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় বিকল্প জ্বালানিতে কর সুবিধা দেওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে শুধু কর ছাড় দিলেই হবে না, নেট মিটারিং অনুমোদন ও গ্রিড সংযোগ প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও বাড়াতে হবে, যাতে ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও নিতে পারে এ সুবিধা।’
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেছেন, ‘কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।’




