কার্গো সংকটের আক্ষেপ, তবু সম্প্রসারণে এগোচ্ছে ইউএস-বাংলা

সংগৃহীত ছবি
দেশে কোনো কার্গো এয়ারলাইন্স না থাকাকে `দুর্ভাগ্যজনক' বলে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও, বড় পরিসরে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ফুল-সার্ভিস ও লো-কস্ট—দুই ধরনের এয়ারলাইন্স চালু, বহরে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেসরকারি এই ক্যারিয়ার।
আজ রবিবার রাতে কক্সবাজারে একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশে কোনো কার্গো এয়ারলাইন্স নেই—এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। এতে দেশের কানেক্টিভিটি সীমিত হয়ে যাচ্ছে।’
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইন্স। শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ রুটে ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট সংযোজনের দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আব্দুল্লাহ আল মামুন জানালেন, স্বাধীনতার পর কোনো বেসরকারি এয়ারলাইন্স ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট দিয়ে ডমেস্টিক অপারেশন শুরু করেনি। আমরা শুরু থেকেই নতুন এয়ারক্রাফট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি।
বর্তমানে ইউএস-বাংলা দেশের ৬টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য তাদের।
দুটি এয়ারলাইন্স পরিচালনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘আমরা একটি ফুল-সার্ভিস ক্যারিয়ার এবং একটি লো-কস্ট ক্যারিয়ার পরিচালনা করতে চাই, যাতে যাত্রীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা বেছে নিতে পারেন।'
আগামী ২৯ তারিখ রাজধানীর একটি হোটেলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানালেন, ২০২৭ সালের মধ্যে আমাদের বহরে ২১টি ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে। আন্তর্জাতিক রুটেও আমরা নতুন এয়ারক্রাফট পরিচালনা করব।
এয়ারক্রাফটের মান নিয়ে প্রচলিত ধারণা প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুন বললেন, ‘আমাদের বহরের গড় বয়স প্রায় ১০ বছর, যা আন্তর্জাতিক মানের। অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স মানেই পুরনো বিমান—এটা সঠিক নয়।’
নতুন উড়োজাহাজে আধুনিক সেবার কথাও জানান আব্দুল্লাহ আল মামুন। বললেন, ‘ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি সিটে চার্জিং সুবিধা থাকবে। আমরা যাত্রীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।’
বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রা মিলিয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৯৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। আন্তর্জাতিকসহ মাসে প্রায় ৩,৫০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি।
যাত্রীসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন রুট চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ‘চেন্নাই রুটটি মূলত চিকিৎসার জন্য চালু করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি ব্লেসিং ফ্লাইট হয়ে উঠেছে।’
মালদ্বীপ রুট নিয়েও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। বললেন, ‘ভাড়া কমানোর ফলে প্রবাসীরা এখন সহজে দেশে ফিরতে পারছেন।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দাম্মাম ও মদিনায় ফ্লাইট চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি জানালেন, প্রয়োজনীয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হলে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফ্লাইট শুরু করব।
মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। 'আমরা ইতোমধ্যে ৫০ জন তরুণকে বিদেশে পাইলট প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছি, ভবিষ্যতে আরও ২০০ জনকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।'
এভিয়েশন খাতে নীতিগত সহায়তা পেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ আরও বাড়বে বলেও মনে করেন ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।




