হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।
এতে উল্লেখ করা হয়, নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘সামাজিক সচেতনামূলক প্রচারাভিযান’ করা এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মো. আমানউল্লাহ আমান, আজিজুল বারী হেলাল, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে এতে অংশ নিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।



