ওয়াল স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, বিনিয়োগে তৈরি নতুন সুযোগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। বিনিয়োগকারীদের আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জেপি মর্গ্যান চেজ আয়োজিত এক প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশ আসছে ওয়াল স্ট্রিটে’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নই। একজন বাংলাদেশি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থরক্ষার দায়িত্ব থেকেই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলছি। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেমন নিজেদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, তেমনি আমার দায়িত্ব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূল লক্ষ্য সাফল্য নিশ্চিত করা।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার পর এবার আমি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য দেশের সম্ভাবনার বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে চাই।’
ব্যবসায় নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ। তার সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের পরিচিতি থাকলেও এর বাইরেও দেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্বালানি, অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়, এসব প্রশ্ন বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
এ সময় তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। তাদের সুনির্দিষ্ট সুযোগ ও প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় বিষয় সমাধানে কাজ করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল, আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব।’
ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে কার্যক্রম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে, তাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত। একই সঙ্গে শিগগিরই তাদের অনেককে বাংলাদেশে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।




