অর্থমন্ত্রী
আগামী দুই বছর কঠিন সময় যাবে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী—সংগৃহীত ছবি
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আগামী দুই বছর কঠিন সময় যাবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘কালকে সকালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে— এমন প্রতিশ্রুতি দেব না। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’
আজ সোমবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেছেন তিনি।
পুঁজিবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘ক্যাপিটাল মার্কেটে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদার লোকদের নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দিতে আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে। এই ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন সহজ করার পথে কোনো বাধা এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে মানুষ।’
‘এই বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা হলো অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ। নাগরিকরা শুধু নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবে না; তাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখার এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। এবার আমরা বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে একটি নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি’— যোগ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলছিলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান মানুষ ও জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের কাজ এখনো যথাযথ স্বীকৃতি ও সহায়তা পায়নি। আমরা দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং পণ্যের যথাযথ বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে এ ধরনের জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া।’
প্রস্তাবিত বাজেট তরুণ প্রজন্মকে সহায়তা করবে এবং তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ‘আমরা অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বাধা কমাতে চাই, নাগরিকদের জন্য আরও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই এবং মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে অংশগ্রহণ সহজ করতে চাই’— বলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর এমএ বাকী খলিলী। আগামী করবর্ষের ব্যক্তিশ্রেণির করকাঠামোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘করের চাপ বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষের সঞ্চয় কমে যাবে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
বর্তমান আয়কর কাঠামোকে ‘রিগ্রেসিভ’ বা পশ্চাৎপদ বলে অভিহিত করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট কর হার কমানোর দাবি জানান তিনি।





