সাড়ে ৬ বছরে পাহাড়ধসে গেল ৯২ প্রাণ
- টিলা ও পাহাড় কেটে আবাসন

ফাইল ছবি
টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢল। পার্বত্য অঞ্চলে মেঘের গর্জন মানেই বুক কাঁপানো আতঙ্ক। মুহূর্তেই ধসে পড়ছে মাটির স্তূপ। মাটিচাপায় নিমেষেই হারিয়ে যাচ্ছে একেকটি তাজা প্রাণ। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধস এখন যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই দীর্ঘ হয় মৃত্যুর মিছিল। স্বজনহারা মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পাহাড়ের বাতাস। কখন কোন পাহাড় ভেঙে পড়বে, সেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে হাজারো মানুষের।
খাতা-কলমে মৃত্যুর হিসাব রাখা হলেও, বাস্তবের ক্ষত আরও অনেক গভীর। ফায়ার সার্ভিসের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু চলতি বছরেই গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৯টি পাহাড়ধসে প্রাণ গেছে ৩০ জনের। আহত হয়েছেন আরও ৮৮ জন।
শুধু চলতি বছরই নয়, গত সাড়ে ৬ বছরে (২০২০ থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত) পাহাড়ধসে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৩৯৭ জন। ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি বছর গড়ে পাহাড়ধসে ১৪ জন মারা যান এবং আহত হন ৬১ জন। এই তথ্য খাতা-কলমে থাকলেও বাস্তবে মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ধস কোনো স্বাভাবিক দুর্যোগ নয়। এটি মূলত মানবসৃষ্ট সংকট। টিলা ও পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের কারণে প্রায়ই পাহাড়ধস ও মাটিচাপায় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ২২টি পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃত্যু হয় ছয়জনের, আহত হন ১০ জন। ২০২৪ সালে পাহাড়ধসের ২৩টি ঘটনায় প্রাণ হারান ১৬ জন, আহত হন তিনজন। ২০২৩ সালে পাহাড়ধসের ৩৫টি ঘটনায় ১৫ জন মারা যান, আহত হন ২৩৪ জন। ২০২২ সালে ১০টি ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২১ সালে ১০টি ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু ও ৩৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ২০২০ সালে ১৩টি পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৪ মারা যান ও আহত হন ১৮ জন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহাম্মেদ খান স্পষ্টভাবে জানালেন, পাহাড় মানুষের বসবাসের জায়গা নয়। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতি বছর সেখানে নতুন নতুন ঘরবাড়ি উঠছে।
আলী আহাম্মেদ খান আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘রাস্তা তৈরির নামেও কাটা হচ্ছে পাহাড়ের বুক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারানোর কারণেই পাহাড়গুলো ভেঙে পড়ছে। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামানো সম্ভব নয়।’




