জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বিরোধীদের প্রতিবাদ

সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত এসব কর্মসূচি থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারের নীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন দলগুলোর নেতারা।
বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে। এ কারণে সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে।’
তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি এবং জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে সরকার তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে দ্রব্যমূল্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। সরকারকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, জনগণ যেভাবে রাজপথে নামছে, ভবিষ্যতে গ্রামগঞ্জ থেকেও মানুষ ঢাকার দিকে লং মার্চ নিয়ে আসতে পারে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরও মহাখালীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সেখানে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, কয়েক মাসের মধ্যে দফায় দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। তার দাবি, জ্বালানি সংকটের প্রভাব দ্রব্যমূল্য, কৃষি, পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে। গভীর রাতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মিছিলটি মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাবিস্কো এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে, বাংলামোটরে এনসিপির কর্মসূচিতে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট থাকলেও তা মোকাবিলায় বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, সরকারের কর্মকাণ্ডে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জনগণকে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচির প্রয়োজন হলে ১১ দল তা বিবেচনা করবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারাও রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন। দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহন ভাড়া, দ্রব্যমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। তিনি সরকারের সিদ্ধান্তকে সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিফলন দাবি করে দ্রুত তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফী রতন বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পরিবহন, কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের বাজারে পড়বে। তিনি জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জ্বালানি খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।



