পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

সংগৃহীত ছবি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমী জাহানাবাদী। আজ বুধবার সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। প্রতিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ও এর বাইরের জনগণের স্বার্থে আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তুরস্ক এবং পাকিস্তান ইরানের খুব ভালো বন্ধু। আর সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এটি এমন একটি দেশ যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই 'মক্কা চুক্তি'নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান এবং আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল এই সমস্ত আরব দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। আমরা কখনো কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড বা মাটিতে আক্রমণ করিনি।
এ সময় বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, বাংলাদেশ সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলেছে। তাই বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি মনে করি না, বরং আমরা মনে করি এই মক্কা চুক্তিটি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।
এ সময় সাংবাদিকর প্রশ্ন করেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন- মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যে সমস্ত ইসলামিক দেশগুলো এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না?
উত্তরে তিনি বলেন, না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অতীতের বছরগুলোতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সবসময় স্পষ্ট ছিল। তারা বলত- 'আমাদের সামরিক ঘাঁটি করার জন্য জমি দাও এবং আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেন, তাহলে আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেব।'
আমেরিকা এই একই অজুহাত দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল—যেন তারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে পারে এবং বিশ্বে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে, যোগ করেন তিনি।
ইরান কি এই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বা দেবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তার মন্তব্য, আমরা যোগ দেওয়ার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্য দেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলার প্রথমদিনেই দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর পরপরই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। হামলা হয় মার্কিন ঘাটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে। গত ছয় মাস ধরে বিরতি দিয়ে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। জুন মাসে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সই করলেও তা স্থায়ী হয়নি।





