সালাহউদ্দিন আহমদ
জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি- তৈবুর তানভীর
জুলাই কারো একার নয়। যারা জুলাই চেতনার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছে তাদের প্রতি আমার নসিয়ত, শুধু জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না।
আজ রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গণ অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বললেন, ‘তারা নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে, আবার পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতি করা আওয়ামী বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাবে-সেটি ঠিক নয়।’
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বললেন, ‘মব কোনোদিন জাস্টিস হতে পারে না, এটি মব কালচার হতে পারে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মব কালচার দেখেছি। তবে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি শাসন সংস্কার করব।’
তিনি জানালেন, সরকার দ্রুতই একটি ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনতে যাচ্ছে। আন্দোলনের পেছনের সমন্বয় নিয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘পর্দার অন্তরালে অনেকে থাকে যারা অভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছিল। তাদের মধ্যে আমাদেরও কিছু অংশ ছিল। কিন্তু আমরা কখনো দাবি করিনি। যুদ্ধ মাঠে হয়, যারা সম্মুখে থাকে তারাই মাঠে থাকে। তবে এই যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য নীতি প্রণয়ন ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, আমরা সেটিই করেছিলাম। কোটা এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের হাত ধরেই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। হাসিনার পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিদেশি শক্তি ছিল, আর আমাদের সঙ্গে ছিল দেশের জনগণ। যেদিন আবু সাইদ শহীদ হয়েছিল, সেদিনই নিশ্চিত হয়েছিলাম এদেশের মুক্তি হবে।’
আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বললেন, ‘২০২৪-এর জুলাই ছিল সর্বস্তরের জনগণের। এটি কোটাবিরোধী আন্দোলন হলেও একটি ছয় বছরের বাচ্চাও স্বৈরাচারের হাত থেকে রেহাই পায়নি।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বললেন, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অনেকে দৃষ্টি হারিয়েছেন, অঙ্গহানি হয়েছে। সাভারে মৃতদেহ পোড়ানোর মতো বর্বর ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় স্নাইপার ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বললেন, ‘৭১-এর ধারাবাহিকতায়ই ২৪-এর অভ্যুত্থান ঘটেছে। একটি আরেকটির বিরোধী নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের শুরু থেকে কোন দল কোন পক্ষে ছিল তা জনগণ জানে। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো গুম বা খুনের অভিযোগ নেই। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ ও তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা সবাই এক।’




