নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ঠেকাতে বায়োমেট্রিক চালুসহ ১২ নির্দেশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী ঠেকাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুসহ ১২টি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নানা ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অপব্যবহার রুখতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে এই নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় কিছু অসৎ পরীক্ষার্থী নিজের জায়গায় অন্যকে দিয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষা দেওয়াচ্ছে। আবার অনেকেই ব্যবহার করছে এআই ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অযোগ্যরা চাকরি পেয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত করছে সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যেসব নির্দেশনা দেওয়া হলো
১. আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা সাম্প্রতিক রঙিন ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করতে হবে।
৩. পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থীকে ক্ষুদ্রাকৃতির ব্লুটুথ ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়িসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ বা বই-পুস্তক নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রের গেটে মেটাল ডিটেকটর দিয়ে তল্লাশি করা হবে।
৪. পরীক্ষা শুরুর পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
৫. পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকরা উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
৭. মৌখিক পরীক্ষায় প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা নিয়ে তা উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখতে হবে।
৯. ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি বাধ্যতামূলকভাবে তুলে রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী চাকরিতে যোগদানের সময় ওই ছবি পরীক্ষা করে যোগদানপত্র গ্রহণ করতে হবে।
১০. পরীক্ষার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।
১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, সামারি ট্রায়াল অথবা নিয়মিত মামলা করতে হবে এবং
১২. ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।





