সংসদীয় কমিটি নিয়ে সংসদে বিতর্ক হয়নি সমাধান

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের দাবি, সংসদে আসনের অনুপাতে তাদের একাধিক স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা। তবে সরকার বলছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের পরই সনদ অনুযায়ী এসব পদ বণ্টন করা হবে। এ নিয়ে রবিবার রাতে সংসদে অনির্ধারিত আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।
বিতর্কে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। দুই পক্ষের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে উভয়পক্ষের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার আলোচনারও অনুরোধ করেন তিনি।
জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক ১১টি এবং মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ১৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ পেয়েছে বিরোধী দল। ওই কমিটির সভাপতি বিরোধীদলীয় উপনেতা তাহের।
রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সই করা জুলাই জাতীয় সনদে সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান— এই চারটি কমিটির সভাপতি বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদটিও সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।
সংসদে বিরোধী দলের আসন প্রায় ২৬ শতাংশ। সে হিসাবে ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির মধ্যে প্রায় ১০টির সভাপতি পদ তাদের পাওয়ার কথা বলে বিরোধী দলের দাবি। চারটি নির্দিষ্ট কমিটি মিলিয়ে বিরোধী দলের মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা।
গতকাল সংসদে নতুন সংসদীয় কমিটি গঠনের কার্যসূচি ছিল। তবে বিতর্কের পর নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। শুধু চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
কার্যসূচিতে যাওয়ার আগে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নেবে বলে তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জানতে পেরেছেন। এ কারণে বিশেষ কমিটি পুনর্গঠন ও নতুন স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব তখন না আনার কথা বলেছেন তিনি।
তবে তাহের বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে নাম দেওয়ার কোনো কথা তিনি বলেননি। সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে চিফ হুইপ বলেছেন, সরকারি হিসাব কমিটির বাইরে অন্য কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার রেওয়াজ নেই। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে তাদের দাবি অনুযায়ী কমিটির সভাপতি পদ দিতে সরকার রাজি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের পরই সনদ অনুযায়ী পদ বণ্টন করা হবে। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বললেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে দাবি জানালে সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায়ও সহযোগিতা করতে হবে।







