আ.লীগ আমলের ১৩০০ প্রকল্পে অনিয়মের খোঁজে সরকার

ছবি: বাসস
আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৫ বছরের বেশি সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ে বাস্তবায়ন হওয়া ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
শুধু অনিয়ম শনাক্ত করাই নয়, এসব প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও বাস্তবিক কার্যকারিতা যাচাইয়ে প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে— এমনটিই জানালেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ রবিবার সংসদে বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদের দাবি, শেখ হাসিনা সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এসব ঋণের দায় পরিশোধের বড় ধরনের চাপ বহন করতে হচ্ছে এই সরকারকে।
‘অনেক বিষয় বিচারাধীন এবং অনেকগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে আমরা প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছি’— উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
মূল্যায়নের অগ্রগতির বিষয়ে আমির খসরু জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। অনেক প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আবার অনেকগুলো মধ্যবর্তী পর্যায়ে রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই করে ইতোমধ্যে কিছু প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সেগুলো বাতিল করার সুযোগ নেই।’
‘এসব প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট আর্থিক দায়, বিশেষ করে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে নেওয়া ঋণ পরিশোধের দায়িত্বও বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে’— উল্লেখ করলেন আমির খসরু।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, এত অল্প সময়ে বাংলাদেশ এর আগে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়নি। এসব ঋণ পরিশোধ করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে।
সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি মৌলিক নীতি গ্রহণের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা বা রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়।
আগের সরকারের নেওয়া অনেক প্রকল্পে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি দাবি অর্থমন্ত্রীর।
করব্যবস্থায় সহজ পদক্ষেপ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কর নির্ধারণ নিয়ে করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান ভয় দূর করতে দেশের করব্যবস্থা সহজ ও অধিকতর স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু স্বীকার করেন, করদাতাদের মধ্যে সাধারণভাবে এমন একটি ভয় রয়েছে যে কর রিটার্ন, বিশেষ করে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করলে নিরীক্ষার আওতায় পড়তে হবে এবং পরবর্তী সময়ে হয়রানির শিকার হতে হবে। দেশে করের আওতায় আসা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভয় রয়েছে, তা সত্য।
‘মানুষ যাতে স্বেচ্ছায় কর দিতে এগিয়ে আসে, সে লক্ষ্যে সরকার করব্যবস্থা সহজ করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন কারণে এই ভয় রয়েছে। এ কারণেই মানুষ করের আওতায় আসতে চায় না। তাই সরকার সামগ্রিক কর প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে’—যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।
দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তি নয়
দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং তাদের কোনো ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির শুধু মালিক বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেই ওই কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের (নোয়াখালী-৬) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
‘করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আইনগত সত্তা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়— এই দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে’— উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনা যাবে। কিন্তু কোম্পানি একটি আইনগত সত্তা।’







