নজরুলকে নিয়ে বিতর্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘টিপস’ ‘এনজয়’ করেন বিরোধী নেতা

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
একটি সংসদীয় কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্কে জড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
আজ সোমবার সংসদ অধিবেশনে এই বিতর্ক চলার মধ্যে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘টিপস’ উপভোগ করেন তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠনের সময়। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে গঠিতব্য এই কমিটির সদস্য হিসেবে সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিতে উদ্যোগ নিলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে জানতে চান, নজরুল ইসলাম কি বিরোধীদলীয় কোটা থেকে এই কমিটিতে এসেছেন?
চিফ হুইপ তখন বলেন, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের প্রত্যেককে কমপক্ষে একটি সংসদীয় কমিটিতে রাখতে হয়। নজরুলকে আগে দুটি কমিটিতে রাখা হয়েছিল, কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে তার নাম বাদ দিতে হয়েছে। এখন তাই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে।
গাজী নজরুলকে কয়েক মাস আগে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। তবে তার সংসদ সদস্যপদ এখনও বহাল রয়েছে, কেননা তিনি নিজে পদত্যাগ করেননি কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেননি।
বিষয়টি তুলে চিফ হুইপ বলেন, এই কমিটির কার্যক্রম খুব বেশি না। তাই সদস্য হিসেবে তাকে রাখা যেতে পারে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তার সদস্যপদ বাতিল হয়।
বিরোধী দলের কোটা থেকে তাকে না রাখায় এনিয়ে আপত্তি না থাকার কথা বলেন জামায়াত আমির শফিকুর।
তবে এর পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দাঁড়ান। তিনি জামায়াতের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যি চান, তার (নজরুল) আসন শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি দলের পক্ষে ভোট দেননি, সে বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে যদি নোটিস দেন, তাহলে আমরা তাতে সহযোগিতা করতে পারি।’
‘আমরা বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম,’ রসিকতাচ্ছলে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মধ্যে আমাদের কিছু টিপস দেন, তা আমরা এনজয় (উপভোগ) করি। তিনি থাকলে সংসদ প্রাণবন্তু হয়, আইদার (হয়) পজিটিভ, নয় নেগেটিভ।’
নজরুলকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্লোর ক্রসিংয়ের কথা বলব কেন? আমরা তো তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। নৈতিক কারণে তাকে আমরা বহিষ্কার করেছি, নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে কোথাও (কোনো কমিটিতে) না রাখাটা উচিৎ হবে।’
এরপর আবার দাঁড়িয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এর দ্বারা বুঝে নিতে হবে, গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদটা বহাল থাকল, কিন্তু কমিটিতে রাখা যাবে না। কমিটি থেকে তাকে বাদ দেওয়া যায়। বাদ দিলে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন হবে। কিন্তু আমরা বুঝে গেলাম, তার সদস্যপদ শূন্য করার পক্ষে তিনি নন।’
এর জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, নজরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন। দলের বিপক্ষে ভোট দেননি। তাই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এখানে খাটে না।
এরপর তিনি বলেন, ‘আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু বললে আমার কিছু বলতে হয়, আমি বললে তার কিছু বলতে হয়।’
দুজনের বাহাসের পর চিফ হুইপ সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির প্রস্তাব নতুন করে উত্থাপন করেন, তাতে নজরুলের নাম বাদ দেওয়া হয়। ডেপুটি স্পিকার তা কণ্ঠভোটে দিলে তা পাস হয়।






