সরকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ ১১ এমপির

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। তা সত্ত্বেও নতুন করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করেছে বর্তমান সরকার। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও রিট হয়েছে। গতকাল রবিবার এই আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ সংসদ সদস্য। এতে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে।
২০০৬ সালের এক রায়ে ২০০১ সালে জারি করা একই প্রকার প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘মন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কার্যক্রমের জন্য পৃথকভাবে এবং সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের জন্য যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়ী। কোনো নির্দিষ্ট জেলার বিষয়ে তাদের কোনো ক্ষমতা বা কার্যাবলি নেই। তবে, নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা তদারকি করার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’
কিন্তু হাইকোর্টের এমন রায় ও পর্যবেক্ষণের পরও গত ২৭ আগস্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি এবং পরামর্শ প্রদান।’ প্রজ্ঞাপনটি হাইকোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে রিটকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের ভাষ্য, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৯ এবং ৬০ অনুযায়ী জারি করা যাবে না এ ধরনের কোনো প্রজ্ঞাপন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রুলস অব বিজনেসের রুল ৩৩ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো ক্ষেত্রে বা ক্ষেত্রগুলোয় এই রুলস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা মঞ্জুর করতে পারেন। পাশাপাশি বলা হয়েছে, রুলস অব বিজনেসের চ্যাপ্টার ১, চ্যাপ্টার ২ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তারা বিষয়টি পলিসি হিসেবে আলোচনা করেছেন।
কিন্তু রিটকারীদের আইনজীবী জানিয়েছেন, রুলস অব বিজনেসের ভেতরে বা বাইরে প্রধানমন্ত্রীর যত ক্ষমতাই থাকুক না কেন, তা কোনোভাবেই তাকে সংবিধান ভায়োলেট (লঙ্ঘন) করার ক্ষমতা দেয়নি। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যত পলিসিই আলোচনা হোক না কেন, সংবিধান ভায়োলেট করার ক্ষমতা মন্ত্রিপরিষদেরও নেই। তা হোক কালেক্টিভলি বা ইন্ডিভিজুয়ালি।
শিশির মনির বলছেন, এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। রিট আবেদনটি বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে দ্রুতই শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।







