বঙ্গতাজের জন্মদিন আজ
তাজউদ্দীনের ভাষণগুলো কোথায়?

তাজউদ্দীন আহমদ
বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিন— ১৯৭১ সালের ১০ ও ১৭ এপ্রিল এবং ১৬ ডিসেম্বর। এই তিন দিনই বেতারে ভাষণ দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তবে এই ভাষণগুলোর লিখিত রূপ বিভিন্ন সংকলনে থাকলেও, সেগুলোর মূল অডিও সংস্করণ সচরাচর শুনতে পাওয়া যায় না। লেখক মো. মিনহাজ উদ্দীন বললেন, ‘খুব সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধোত্তরকালে বাংলাদেশের মানুষ এই তিনটি ভাষণের কোনোটি কখনো শোনেনি। আমি নিজেও যুদ্ধদিনের তাজউদ্দীন আহমদের দেওয়া এই তিনটি ভাষণের কোনো অংশ দেশের কোনো গণমাধ্যমে শুনতে পাইনি; এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও নয়।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন করে আলোচনায় আসেন তাজউদ্দীন আহমদ। মিনহাজ বললেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে পাশ কাটিয়ে রাখার কুচিন্তা কিংবা আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষোভ থেকেই হোক, তাজউদ্দীনের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এই ভাষণগুলো উদ্ধার বা সম্প্রচারের উদ্যোগ কেউ নেয়নি, এমনকি এগুলো নিয়ে কোথাও কোনো আলোচনাও হয়নি।
স্বাধীনতার দলিলপত্রসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনেক বই বা সংকলনে তাজউদ্দীনের ভাষণগুলোর লিখিত রূপ সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানালেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। অডিওগুলো ভারতের আকাশবাণীতে খোঁজ করলে পাওয়া যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘আমাদের ইতিহাস নিয়ে অনুসন্ধানের ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের বড় পরিসরের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আমাদের বেশিরভাগ গবেষণা ব্যক্তি উদ্যোগে হয়, অথচ এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।’
প্রায় একই কথা জানালেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। তিনি বললেন, তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ এবং যুদ্ধকালে দেওয়া তার নানা বক্তব্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। গবেষকদের কেউ কেউ তাকে নিয়ে কিছু কাজ করেছেন, তবে আরও বড় পরিসরে গবেষণা হওয়া উচিত। পাশাপাশি ইতিহাস অনুসন্ধানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও বিভিন্ন আঙ্গিকের লেখা প্রকাশের ওপর জোর দেন।
শেখ মুজিব বনাম তাজউদ্দীন: অর্থহীন এক বিতর্ক: শেখ মুজিবুর রহমানকে ছোট করার জন্য তাজউদ্দীন আহমদকে বড় করে দেখানো কিংবা এর উল্টো চেষ্টা করাকে সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে মনে করেন মহিউদ্দিন আহমদ ও মফিদুল হক।
তবে ইতিহাস কাউকেই বঞ্চিত করে না উল্লেখ করে মহিউদ্দিন আহমদ বললেন, রবীন্দ্রনাথকে ছোট করার জন্য যেমন কেউ কেউ নজরুলকে বেশি করে প্রচার করতে চায়, তেমনি শেখ মুজিবকে ছোট করার জন্য অনেকে তাজউদ্দীনকে সামনে দাঁড় করাতে চায়। কিন্তু ইতিহাসে শেখ মুজিব বা তাজউদ্দীন, কিংবা রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল— প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব যোগ্যতায় প্রাপ্য সম্মানের স্থানে আসীন।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তার জন্ম। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হন বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ।




