বাড়তি টাকা জোগানোই বড় চ্যালেঞ্জ

ড. জাহিদ হোসেন। ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর প্রভাব নিয়ে লিখেছেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ফলে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি প্রয়োজন হবে। সেটি জোগান দিতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর খুব একটা প্রভাব পড়ার কথা নয়। কারণ মোট চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তবে এই অর্থায়নের জন্য টাকা ছাপানো অথবা ঋণ নেওয়া হলে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বাজারে অতিরিক্ত টাকা আসবে কি না, তা নির্ভর করছে কীভাবে অর্থায়ন করা হবে তার ওপর। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করে অর্থায়ন করলে একদিকে যেমন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে রাজস্বের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা বেরিয়েও যায়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই বেতন বৃদ্ধি একবারে না করে দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমি মনে করি, টাকা ছাপিয়ে অর্থায়ন না করে যদি ঋণ নিয়ে (যেমন: ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা) অর্থায়ন করা হয়, তবে তাৎক্ষণিক মূল্যস্ফীতি না হলেও ভবিষ্যতে বাজেটের ওপর এটি প্রভাব ফেলবে। কারণ এই ঋণ স্থায়ী ও বারবার নিতে হবে, ফলে সুদের ওপর সুদ দিতে গিয়ে ভবিষ্যতে একটি চক্রবৃদ্ধি হারে ব্যয় বৃদ্ধির জায়গা সৃষ্টি হবে। এটি টেকনিক্যাল ভাষায় ‘ফিসক্যাল স্ট্রেস’ বা বাজেটে একধরনের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
সরকার এ সিদ্ধান্তের একটি দিক (বেতন বৃদ্ধি) স্পষ্ট করলেও অর্থায়নের উৎস বা অন্য দিকটি এখনো পরিষ্কার করেনি। আমলা, মিলিটারি ও পেনশনারদের মধ্যে এক বছর ধরে প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় এবং নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি থাকায় চাপের মুখে সিদ্ধান্তটি আগে নিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে প্রজাতন্ত্রের অর্থ দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের সেবা প্রদানের জবাবদিহির প্রসঙ্গটিও চলে আসে। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধির ফলে সেবা প্রদানে কী প্রভাব পড়ল, তা দেখা উচিত। সেবা উন্নত হলে তা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাত এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও সহায়ক হতো। তবে এটি কিছুটা তাত্ত্বিক, কারণ আমাদের প্রশাসন ‘পারফরম্যান্স বেজড’ (কর্মদক্ষতাভিত্তিক) সিস্টেমে সাজানো নয়। তবুও বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন।







