বাংলাদেশের আরও বোয়িং কেনার খবর দিলেন গর

ফাইল ছবি
চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার পথে যখন এগোচ্ছে বাংলাদেশ, তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো পরিবহন বিমান কেনার প্রক্রিয়াও ঢাকা চালাচ্ছে। এমন খবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।
গতকাল রবিবার নিজের এক্স একাউন্টে এক পোস্টে এই খবর দেন গর। তিনি কোটি কোটি ডলারে বাংলাদেশের আরো বোয়িং কেনার খবর দিলেও কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে গত এপ্রিলেই চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
এর আওতায় আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট কেনা হচ্ছে। এই কেনাকাটায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
এই চুক্তির বাইরে বোয়িং থেকে আরও উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশ চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বলে গর দাবি করেছেন; যদিও এ বিষয়ে সরকারের কোনো ভাষ্য এখনও আসেনি।
গর এক্স পোস্টে নিজ দেশের প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই সপ্তাহেই আরেকটি অসাধারণ চুক্তি করেছেন। বাংলাদেশ বিলিয়ন ডলারে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা তাদের আগের ক্রয়াদেশের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।’
গর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যান। গত ৩০ জুলাই ঢাকায় আসার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। সফর শেষে দিল্লি ফেরার আগে তিনি এক্সে এক পোস্টে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানের জন্য ইউরোপের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঝড় সামলাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর কৌশল নিতে হয়। তাতে অন্তর্বর্তী সরকার বোয়িংয়ের বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রক্রিয়াই এগিয়ে নেওয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা। এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে বাকিগুলো যুক্ত হবে বিমানের বহরে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা করছে। তবে চাহিদা মেটাতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন বলে বিমান কর্মকর্তারা মনে করেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।








