প্রাণ গেল ডেঙ্গুতে
রোগীদের সেবা দিয়েই ফিরেছিলেন, পরদিন ডেঙ্গু ইউনিটে যাওয়ার কথা ছিল আঁচলের

ডা. আঁচল রায়। ছবি : সংগৃহীত
পরদিনই ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল ডা. আঁচল রায়ের। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতিও ছিল তার। কিন্তু সেই দায়িত্ব আর পালন করা হয়নি। তার আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেল ৩০ বছর বয়সী এ চিকিৎসক।
গতকাল রবিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ আলম তারেক জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও আঁচল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। পরদিন তার ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার দিন ধরে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন আঁচল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আঁচলের স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাসও একজন চিকিৎসক। তিনি জানান, হাসপাতালে প্রথমে তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ডা. আঁচল রায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট-ওয়ান পাস করেন।
৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন আঁচল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরও দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতিও চলছিল তার। তবে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই থেমে গেল তার পেশাগত পথচলা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান আঁচলের বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বাবা মনীশ রায় ও মা শ্রীমতি মিতা রায়ের সঙ্গে রাজধানীর খিলগাঁও সি ব্লকে থাকতেন তিনি। প্রায় ১৭ মাস আগে চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।
আঁচলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক মহলে শোক নেমে এসেছে। ৪২তম বিসিএসের সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও তৈরি হয়েছে শোকের ছায়া।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারিয়েছে। তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




