হামে হাজারো শিশুমৃত্যুর জন্য দুই সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
হামে হাজারো শিশুমৃত্যুর জন্য দুই সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মারা যাওয়া শিশুদের জন্য গভীর শোক এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি। বললেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
মন্ত্রী আজ শনিবার ঢাকায় মহাখালীর কড়াইলে টিএন্ডটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ৷ এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮৪। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ১৫ জন। আর মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩।
টিকা দেওয়ায় গাফিলতির প্রসঙ্গে টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ‘২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে চালু না থাকা এবং ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থার অজুহাতে বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতা— পূর্ববর্তী সরকারের এসব গাফিলতির খেসারত জাতিকে দিতে হয়েছে। এর নির্মম পরিণতিতে অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে।’
প্রতিটি শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য লজ্জার বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, ‘প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। প্রতিটি শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং একই সঙ্গে লজ্জার বিষয়।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।’
পরিস্থিতি সামলাতে বিএনপি সরকার দ্রুতই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী। বললেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।’
‘সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি জোরদার করা হয়। এর আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।’
ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব টিকা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল প্রমুখ।




