কিডনি ও ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
ক্যানসার ও কিডনি রোগী বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশে মারাত্মকভাবে বেড়েছে কিডনি ও ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কিডনি ও ক্যানসারের রোগীদের ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হয়। এই রোগীদের কষ্টের সীমা নেই।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখ এবং সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়। চিকিৎসকই পারেন রোগীকে সুস্থ করে তুলতে। অসুস্থ অসহায় মানুষের শেষ সম্বল হলো চিকিৎসক।
তিনি বলেছেন, শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়। এখন শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য একদম জিরো (শূন্য) বয়স থেকে উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, শুধু ব্রিজ বা রাস্তাঘাট নির্মাণ করে ভোট চাওয়ার রাজনৈতিক যুগ পার হয়ে গেছে। মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে এবং জনগণের চাহিদার আলোকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কাজ চালাতে হবে।
সভায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য গবেষণার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) কারণে যখনই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য গবেষণার কথা আসে, তখেই বাংলাদেশ অত্যন্ত গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ডায়রিয়া ও কলেরা নিয়ে যে বিস্তৃত গবেষণা করেছি, তার সুফল আজ বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বললেন, যেকোনো তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের আগেই গবেষকদের সরাসরি উপজেলা হাসপাতালে যাওয়া উচিত। সেখানের কর্মচারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন, যেন প্রকৃত সমস্যা ও সংঘাতের (কনফ্লিক্ট) জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা যায়। এক উপজেলার ভালো অভিজ্ঞতার খবর অন্য উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক উন্নতি দৃশ্যমান হবে।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েবা আক্তার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।




