হাম-ডেঙ্গুতে এক দিনে হারাল ১৬ প্রাণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হাম ও ডেঙ্গু— দুটিই প্রতিরোধযোগ্য রোগ। অথচ এক দিনেই এই দুই রোগে প্রাণ হারাল ১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ৮ জন এবং ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৮ জন। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। প্রতিরোধযোগ্য দুই রোগে একের পর এক মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকার কাভারেজ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আর ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু মৌসুমভিত্তিক অভিযান নয়; সারা দেশে বছর জুড়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।
গত ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত নিয়মিত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মারা যাওয়া ৮ জনের ৪ জন ঢাকা বিভাগের এবং ৪ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে গত ছয় মাসে দেশে হামে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩০ জনের। মৃতদের অধিকাংশই শিশু। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে দুই বছরের কম বয়সী শিশু। বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেনের ভাষ্য, হামে একটি মৃত্যুও গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানে মারা গেছে এক হাজারের বেশি শিশু। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সরকার বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে, যা হতাশাজনক। হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় অবস্থান দেখা যাচ্ছে না, অভিযোগ তার।
চলতি বছরের মার্চে দেশে শুরু হয় হামের প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৩২ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২৮৪৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গুও: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৪ জন ঢাকা বিভাগের, ৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে। মৃতদের মধ্যে নারী ৮২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি।



