এখনো নিখোঁজ ৫৭৯, নেপালে আকস্মিক এই বন্যার কারণ কী

ছবি: বিসিবি
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে বুধবার আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল স্রোতে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে নেপালে।
এই বন্যায় দেশটিতে এখনো ৫৭৯ জন নিখোঁজ। এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসি জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে ৪৬৬ জন ২৮টি দেশের নাগরিক। এ ছাড়া নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে নেপালের ১১৩ জন। নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা ৫৪ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন।
নিখোঁজের মধ্যে কতজন বিদেশি
নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য বলছে, নিখোঁজের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত আটজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ১৭ জন মালয়েশিয়ার, চারজন দক্ষিণ আফ্রিকার এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসেরও একজন করে রয়েছেন।
হঠাৎ কী কারণে বন্যা
নেপালে আকস্মিক বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি বরফ-পাথরের ভূমিধসের তথ্য উঠে এসেছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) এক পোস্টে প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্ল্যানেট ল্যাবসের প্রকাশিত ছবিতে নেপালের ভয়াবহ বন্যায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রও উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের একটি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ভেসে যায়।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের হিমবাহ অঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় একটি বড় অংশের বরফ ও পাথর ভেঙে পড়ে। স্থানটি রাসুওয়াগাধি নেপাল-চীন সীমান্ত ক্রসিং থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই তুষার ও পাথরের স্তূপ কোনো হিমবাহ-হ্রদে গিয়ে পড়ে অথবা নদীর প্রবাহপথ আটকে দেয়। এর ফলে হঠাৎ করে পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। হিমবাহের বরফ, গলিত পানি ও পাথর-বালুসহ বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নিয়ে সেই স্রোত লেন্দে খোলা নদী দিয়ে নেমে ভোতে কোশি নদীতে গিয়ে পড়ে। নেপালের কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ‘হিমবাহ-সম্পৃক্ত বন্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভিডিওতে ২৫ ও ২৬ আগস্টের পাশাপাশি দুটি স্যাটেলাইট ছবি দেখানো হয়েছে। এতে বন্যার আগে ও পরে ওই এলাকার পরিস্থিতির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কী কারণে এই বিপর্যয়
ধারণা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে একটি ভূমিকম্পের পর নেপালের লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। এর ফলে নদীতে আকস্মিক প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়ে ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। লেন্দে খোলা নদীটি নেপাল ও তিব্বত উভয় দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। লেন্দে খোলা নদীর উজানে এখনো একটি বড় ধরনের বাধা রয়ে গেছে। ফলে সেখানে দ্বিতীয় দফায় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নেপালের বন্যার পর ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশে সম্ভাব্য নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এখন পরিস্থিতি কী
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবতরণ করতে পারবে না। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫৭৪ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন
বন্যা কবলিত এলাকায় অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। তবে বন্যার পানির সঙ্গে আসা বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ নেপালকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবেশী ভারত জানিয়েছে, তারা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাঠমান্ডুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।








