‘দেশে নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমকে কাজ করতে হবে’

ছবি: আগামীর সময়
‘আমরা একটা নৈরাজ্যের মধ্যে বাস করছি। সারা দেশে নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমকে কাজ করতে হবে। সম্পাদকদের মাধ্যমে একটি এথিক্যাল গাইডলাইন তৈরি হওয়ার কথা ছিল। গাইডলাইন তৈরি হয়েছে, কিন্তু তা এখনো কেন কার্যকর হচ্ছে না— সেটি দেখতে হবে। যারা নীতিমালা মেনে কাজ করবে, তারা টিকে থাকবে; আর যারা নীতিমালা মেনে কাজ করবে না, তারা টিকবে না।’
আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে সংস্কার কর্মসূচিতে যুবসমাজের কার্যকর অংশগ্রহণ’ প্রকল্পের উদ্যোগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় একথা বলেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ।
তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে নৈতিক নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
আলোচনায় ইউল্যাবের ছাত্রশক্তির প্রতিনিধি ফারহান হাসান বলেন, মোবাইল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও প্রাইভেসি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের জন্য একটি মিডিয়া কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেমা চাকমা বলেন, সংবাদ ফ্রেমিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় একটি এলিট শ্রেণিকে কেন্দ্র করে বিষয় উত্থাপন করা হয়। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর বাস্তবতা যথাযথভাবে উঠে আসে না। তিনি ফেক নিউজ এবং নারীদের সাইবার বুলিংয়ের বিষয়টিকেও বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আগামীর সময়ের নিউজ এডিটর জুয়েল মোস্তাফিজ বলেন, তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ হলেও বর্তমানে তাদের একটি অংশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আধিক্য দেশের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের নীতিপ্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বক্তারা বলেছেন, তরুণদের শুধু সংস্কার কর্মসূচির সুফলভোগী হিসেবে দেখলে হবে না; তাদের অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। নিজেদের অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ ও মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি নীতি-নির্ধারণী আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তরুণদের কণ্ঠস্বর বৃহত্তর জনপরিসরে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও আলোচনায় মত দেন বক্তারা। বস্তুনিষ্ঠ, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক ও জনস্বার্থমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে তরুণদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনাকে সামনে আনার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়ে জনআলোচনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।





