বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হবে না। এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ শনিবার সকালে ঢাকায় ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা জানান। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ (এনআরবি) এ সভার আয়োজন করে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানালেন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের আদলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ নামে একটি আইন পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে সময় নষ্ট না করেন এবং এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিজিটাল সেবাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ অনলাইনে সহজে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও স্বাচ্ছন্দ্যে দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন বলে উল্লেখ করেছেন শামা ওবায়েদ।
বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার অর্থনৈতিক কূটনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত পেয়েছে। সেখান থেকে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। ব্যাংকিং খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেছেন, শুধু বিদেশিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেই হবে না, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
নাগরিকসেবা সহজ করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। একজন নাগরিকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছড়িয়ে থাকা তথ্য সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান শামা ওবায়েদ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ প্রবাসীকে এ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করবে বলে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেছেন, বিশ্বদরবারে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের গল্প তুলে ধরার সুযোগ এবার পাওয়া যাবে। পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অবৈধ অভিবাসন ও দালালচক্রের কারণে অনেক বাংলাদেশি বিদেশে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দক্ষ জনশক্তিকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অভিবাসনসংক্রান্ত একটি বিশেষ উইং চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেছেন, এটি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
বাংলাদেশকে আরও ভ্রমণ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অর্থনীতির বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেছেন, জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও স্থানীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাটকে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল ফাইবার হিসেবে পাট ও পাটজাত পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় সরকার।
সবশেষে শামা ওবায়েদ বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু সমস্যার দেশ নয়, সম্ভাবনারও দেশ। পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সুযোগ রয়েছে এখানে। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।






