নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেননি ২১ প্রার্থী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যয়ের বিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এখনো ২১ প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠিও পাঠিয়েছে ইসি। আজ রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।
‘অভিযুক্ত প্রার্থীদের দ্রুত নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। এজন্য আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেও যারা হিসাব দিতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে’— জানালেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা।
ইসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের দাখিলের জন্য আগে ৬ মে পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এই সময়ের মধ্যেও ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের দাখিলের জন্য সর্বশেষ ১৪ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে যারা হিসাব জমা দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৪ এর বিধান অনুযায়ী নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়া প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির (রওশন) মির্জা মো. শওকত আকবর, সমাজতান্ত্রিক দলের হাবিব মো. ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আজিজুর রহমান সরকার, গণঅধিকার পরিষদের মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও মো. আইনুর রহমান (জুয়েল) মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নবাব মো. শামসুল হোদা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আব্দুল হালিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।
তালিকায় আরও রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্লাহ খোকন ও অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন, আমজনতার দলের মো. আলা উদ্দিন ও মো. জালাল উদ্দীন রুমী, গণঅধিকার পরিষদের মো. আবু তৈয়ব, জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আবুল কালাম, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ, নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আবু সাঈদ মো. সূজাউদ্দীন।







