জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে: স্পিকার

জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথা বলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটি দেশের বড় সম্পদ তার জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘থ্রি ডিভিডেন্ডস, ওয়ান উইন্ডো: এ পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউএনএফপিএ এ আয়োজনে কারিগরি সহায়তা দেয়।
স্পিকার বলেছেন, উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয় নয়। মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনমিতিক লভ্যাংশ, জেন্ডার লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ু লভ্যাংশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজন কার্যকর নীতিগত পরিকল্পনা। পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু নীতি প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বাজেটের কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
স্পিকার জানান, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় এসব নীতি প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে। তরুণদের দক্ষতা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেন। দক্ষ জনশক্তি ও মানবসম্পদ বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সুযোগের তিনটি পৃথক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। ‘বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ: সম্ভাবনা, সময় ও ঝুঁকি’ বিষয়ে মূল আলোচকরাও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





