গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সৃষ্টির নেপথ্যের গল্প সংরক্ষণের উদ্যোগ

রাজধানীর বনানীতে ‘দি আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’ আয়োজিত ‘আইকনিক টুইজডে’ অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের বিপুল সৃষ্টিকর্মের নেপথ্যের গল্প সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার লেখা ও সুর করা প্রায় পাঁচ হাজার গানের নেপথ্য কাহিনি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী বছরের বইমেলায় এর প্রথম বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে সরফরাজ আনোয়ার উপল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে ‘দি আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’ আয়োজিত ‘আইকনিক টুইজডে’ অনুষ্ঠানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের দীর্ঘ কর্মজীবন, সৃষ্টির নেপথ্যের নানা গল্প এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে তার অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে তার স্মৃতিচারণ করেন সহধর্মিণী জোহরা গাজী ও ছেলে সরফরাজ আনোয়ার উপল।
বাবার সৃষ্টিকর্মের নেপথ্যের গল্প সংরক্ষণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে সরফরাজ আনোয়ার উপল বলেন, জীবদ্দশাতেই গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কালজয়ী গানগুলোর পেছনের অজানা গল্প নিয়ে ‘অল্প কথার গল্প গান’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গাজী মাজহারুল আনোয়ার প্রায় পাঁচ হাজার গানের নেপথ্য কাহিনি লিখে রেখে গেছেন। সেগুলো ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থাকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপল বলেন, ‘আজ থেকে ৫০ বছর পর আমরা না থাকলেও যেন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের নাম ও সৃষ্টি হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।’
তিনি জানান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার ২০ হাজারের বেশি গান লিখেছেন এবং ৪১টি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনা করেছেন।
বাবার স্মৃতিচারণ করে উপল জানান, তাদের পরিবারের পুরো পৃথিবীজুড়েই ছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশের সমৃদ্ধির পেছনে সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর আমাদের সেই সংস্কৃতির অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন আমার বাবা।’
জোহরা গাজী গাজী মাজহারুল আনোয়ারের দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের প্রয়োজন কিংবা সংকটের মুহূর্তে তার হাতে কলম উঠে আসত। কর্মজীবনে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।’
বিবিসির এক জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের তিনটি গান স্থান পাওয়াকে পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন জোহরা গাজী।
তিনি আরও বলেন, ‘মাজহারুল আনোয়ার অত্যন্ত সৎ, চরিত্রবান, পরোপকারী ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন। কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা ছিল অসাধারণ। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এই মানুষটি নিজের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।’
অনুষ্ঠানে ‘দি আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’-এর সভাপতি সুজিত মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সৃজনশীল ক্ষেত্রে অবদান রাখা আইকনিক ব্যক্তিত্বদের পরিচিতি, অনন্য সৃষ্টিকর্ম এবং তাদের জীবনের নানা গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। প্রথম পর্বের জন্য এমন একজন স্রষ্টাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যিনি বাংলাদেশের মানুষকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, তার রচিত অসংখ্য গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
আলোচনা পর্বের পর গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও সুর করা বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী অভিজিৎ দে, চৈতি মুৎসুদ্ধি ও শামামা তাহমিদ।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুবসহ অনেকে।
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মারা যান গাজী মাজহারুল আনোয়ার। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য গান লিখেছেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনা করেছেন। একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ জীবদ্দশায় পেয়েছেন নানা রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা।





