‘আমরা চাই না আর কোনো পরিবারের সন্তান এভাবে হারিয়ে যাক’

জুলাইযোদ্ধা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্মরণসভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ‘ভয় দেখাতে পারেনি জীবন’ শীর্ষক স্মরণসভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। অনুষ্ঠানে একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমরা চাই না আর কোনো পরিবারের সন্তান এভাবে হারিয়ে যাক।’
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। এ সময় আরও ছিলেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট একটা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করার মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অনিবার্য ঘটনা ঘটেছে। দেশ চায় স্বাধীনতা, জনগণ চায় বিপ্লবী পরিবর্তন, মানুষ চায় গণতান্ত্রিক সমাজ। আমরা চেয়েছিলাম এই দেশ হবে জনতার দেশ। সমস্ত আধিপত্যবাদ থেকে জাতি মুক্ত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেবল ভোটের অধিকার এবং ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে আমাদের বহু লোককে গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে, আয়নাঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। পরিকল্পিত বিচারালয়ে যাকে খুশি তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অন্যান্য শরিক দলগুলোও হত্যা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। ১৮ বছরের চূড়ান্ত পরিণতিতে এই জুলাই মাসে কোমলমতি ছাত্ররা জীবন দানের চূড়ান্ত সংকল্প করে জয় লাভ করেছে।’
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ ছাত্রদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। ফ্যাসিস্টরা যখনই ক্ষমতায় গেছে, অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু গণতন্ত্রকামী মানুষকে কখনোই প্রতিরোধ করা যায়নি, যাবে না। বারবার আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি, আমরা রুখে দাঁড়াব। আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা মানবিক মূল্যবোধসমৃদ্ধ সমাজ চাই, আমরা মুক্ত সংস্কৃতির সমাজ চাই। আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ চাই।’
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার শোষণমুক্ত সমাজ চায়, যেখানে আমরা মুক্ত কণ্ঠে কথা বলতে পারব, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা গান গাইতে পারব। আমরা চাই না আর কোনো পরিবারের সন্তান এভাবে হারিয়ে যাক।’




