যন্ত্রসংগীতে বাংলা গানের বৈচিত্র্য তুলে ধরল ছায়ানটের ‘শ্রোতার আসর’

ছায়ানটে ‘শ্রোতার আসর’
রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, দেশাত্মবোধক গান ও লোকসংগীত— বাংলা গানের বহুমাত্রিক সুরভুবন এবার ধরা দিল কেবল যন্ত্রের ভাষায়। ছায়ানটের নিয়মিত আয়োজন ‘শ্রোতার আসর’-এ ‘যন্ত্রসংগীতে বাংলা গান’ প্রতিপাদ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় ছায়ানটের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এসরাজ পরিবেশন করেন মো. আশিকুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তুমি কোন কাননের ফুল’, ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার’ এবং ‘নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে’— এ তিনটি গানের সুর এসরাজের মায়াময় আবহে তুলে ধরেন তিনি।
এরপর বেহালায় মাহামুদুল হাসান পরিবেশন করেন কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার গানের মালা’, ‘আমায় নহে গো ভালোবাস শুধু’ এবং ‘ব্রজ-গোপী খেলে হরি’। বেহালার সুরে নজরুলের প্রেম ও আবেগময় সংগীত নতুন মাত্রা পায়।
পিয়ানোতে তানভীর আলম শাওজীব পরিবেশন করেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’, গোবিন্দ হালদারের কথায় সমর দাসের সুরে ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ এবং নজরুল ইসলাম বাবুর কথায় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে ‘সবকটি জানালা খুলে’।
লোকসংগীতের আবহ নিয়ে দোতারায় মঞ্চে আসেন অনুপম বিশ্বাস। তিনি পরিবেশন করেন হাছন রাজার ‘বাউলা কে বানাইলো রে’, জসীমউদদীনের ‘প্রাণ সখী রে ওই শোন কদম্ব তলে’ এবং আবদুল লতিফের ‘সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা’। তার পরিবেশনায় বাংলার লোকঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের সুর অনুরণিত হয়।
রবীন্দ্রসংগীত থেকে নজরুলগীতি, দেশাত্মবোধক গান থেকে লোকসংগীত— বিভিন্ন ধারার বাংলা গান যন্ত্রসংগীতের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শ্রোতাদের ভিন্ন এক সংগীতানুভূতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। পুরো আয়োজনে তবলায় সঙ্গত করেন গৌতম কুমার সরকার এবং মন্দিরায় ছিলেন প্রদীপ কুমার রায়।




