লোক সংগীতে ছায়ানটে শ্রোতার আসর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতিভবন মিলনায়তনে বসেছিল লোকসংগীতের আসর। আজ শুক্রবার ছুটির দিনের সন্ধ্যায় মাটির গানের সুর-তালে মুগ্ধতা ছড়ান শিল্পীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে আসেন শিল্পী পাওয়েল বিশ্বাস। তার কণ্ঠে মনমোহন দত্ত রচিত ও সুরারোপিত ‘জগৎ জননী জাগো’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আসরের সূচনা হয়। এরপর ক্বারি আমিরউদ্দীনের ‘ওরে ভরা গাঙ্গে’ গানটি পরিবেশন করে তিনি শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যান।
পরবর্তী পরিবেশনায় শিল্পী জোনাকী রানী শীল তুলে ধরেন বাংলার মরমি ধারার দুটি গান। এস এম বখত্ শাহ চিশতীর ‘আরে ও মাঝি ভাই’ এবং লালন সাঁইয়ের ‘সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার’-দুটি গানেই তিনি সুর, আবেগ ও ব্যঞ্জনার সমন্বয়ে শ্রোতাদের অন্য এক অনুভবের জগতে নিয়ে যান।
খগেন্দ্রনাথ সরকার পরিবেশন করেন গোকলানন্দ গোস্বামীর ‘আর কতকাল ভবের কূলে কান্তে হবে’, ভবা পাগলার ‘ভাব সাগরে ভাবের মানুষ’, লালন সাঁইয়ের ‘আঁচলা ঝোলা তিলক মালা’, উকিল মুন্সীর ‘আমার প্রাণবন্ধু আসিয়া’, কীর্তনের ‘আমার জীবনও মরণও সাধন ভজন’, রাধারমণ দত্তের ‘নাইয়ারে সুজন নাইয়া’, কুমুদ কান্তের ‘গুরু আমায় যে ধন দিল সব ফেলেছি’ এবং বিজয় সরকারের ‘জানিতে চাই দয়াল তোমার আসল নামটি কী’। তার পরিবেশনায় লোকদর্শন, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনের গভীর বোধ একাকার হয়ে ওঠে।
গানের পরিবেশনায় যন্ত্রানুষঙ্গে- তবলায় ছিলেন স্বরূপ হোসেন, দোতারায় রতন কুমার রায়, বাঁশিতে মো. মনিরুজ্জামান এবং মন্দিরায় প্রদীপ কুমার রায়। সবশেষে সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছায়ানটের এই আয়োজন।




