শিশু মাহফুজ হত্যা
১৩ বছর পর তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ২

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পর তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় দেন। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন জানান এ তথ্য।
রায়ের আদেশে বলা হয়েছে, হত্যার দায়ে জামাল শেখ, তার ভাই রঞ্জু শেখ ও শেখ শামীম আহমেদকে মৃত্যুদণ্ড এবং মাহমুদা খানম উষাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উষাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
তবে সাব্বির ওরফে রাজীবের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু মাহফুজকে অপহরণ করতে ও অপহরণে সহায়তার দায়ে বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শেখ শামীম আহমেদ ও উষাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান মিজান, কামনা বেগম, শেখ সোহরাব, তুহিন শেখ, শেখ সাকিব আহম্মেদ, রাকিব শেখ, সাব্বির আহম্মেদ, মিনারুল ইসলাম ও মঞ্জু শেখের বিরুদ্ধে অপহরণ করতে ও অপহরণে সহায়তার অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। এজন্য ট্রাইব্যুনাল তাদের খালাস দেন। তবে দণ্ডিত আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ৫ জুলাই শবেবরাতের রাতে কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় অপহৃত হয় ইতালিপ্রবাসী রেজাউল ইসলামের ৮ বছরের ছেলে মাহফুজ। পরদিন মাহফুজের পরিবারকে ফোন করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ওইদিনই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে আদালতে হাজির করলে তারা পারিবারিক শত্রুতার জেরে মাহফুজকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। গলায় ফাঁস দিয়ে তারা মাহফুজকে হত্যা করে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। দীর্ঘ ৪৫ দিন অপহরণের পর আটকে রেখে শিশুটিকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ২০ অগাস্ট ঈদের দিন রাতের বেলা শিশুটির লাশ বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় ২১ অগাস্ট স্বপ্না বেগম সম্পূরক এজাহার দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ নভেম্বর কাশিয়ানী থানার এসআই নিজাম শিকদার ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা। মেহেদী ও সাদ্দাম শিশু হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় দোষীপত্র। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।




