ধার নিয়ে বিরোধে রিকশাচালককে হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: আগামীর সময়
টাকা ধার নিয়ে বিরোধে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় রিকশাচালক ইমন কাজীকে হত্যার দায়ে যুবক আল-আমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন চৌধুরী আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস সাজা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের দায়ে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের সাজা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী এ তথ্য জানান।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় ইমন অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন। গভীর রাতে গেন্ডারিয়ার ফরাসগঞ্জ মামুর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইমনের বাবা মো. লিটন পরদিন কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের চার দিন পর ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগ সোনামাবিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার ঝোঁপের ভেতরের ডোবা থেকে ইমনের হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইমনের বাবা কদমতলী থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় ওই বছরের ৫ জুন বরিশাল থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পরে আল-আমিন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের ইন্সপেক্টর রোকনুজ্জামান খাঁন আসামি আল-আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পারিবারিক পরকীয়ার সন্দেহ ও ধার দেওয়া পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আল-আমিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩০ মে সন্ধ্যায় ইমনকে নিজ ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ পান করায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরদিন দুপুরে বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রিকশায় করে নির্জন ডোবায় ফেলে দেয়। পরে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।







