টাকা হাতিয়ে নিতেই যাত্রীকে হত্যা, আদালতে বাসচালকের স্বীকারোক্তি

জামালপুরের ইসমাইল হোসেনকে হত্যা করে তার সঙ্গে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ও মালামাল হাতিয়ে নেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন বাসচালক সোহেল রানা। হত্যার পর তার মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
রিমান্ড শেষে এদিন সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম তালুকদার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সোহেল রানার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। একই দিন বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কার ও হেলপার মাহবুব আলম মনিরও আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন ইসমাইল হোসেন। গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নগদ এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসে ওঠেন।
বাবার আসার খবর পেয়ে তার ছেলে মো. হাসান গাজীপুরের জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করে সেটি বন্ধ পান। পরে সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তিনি বাসায় ফিরে যান।
দুপুর ১২টার দিকে বনানী থানা থেকে ইসমাইল হোসেনের প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে তার মরদেহ পাওয়ার কথা জানানো হয়। পরে মরদেহের ছবি দেখে সেটি নিজের বাবা হিসেবে শনাক্ত করেন হাসান।
পুলিশ জানায়, বনানী থানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী অংশের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে আনা কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি।
ইসমাইলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার নাক, মাথা ও ডান হাতের কব্জি সাদা কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।



