প্রবাসীকে হত্যার পর ৮ খণ্ড, নারীর দায় স্বীকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর মুগদা এলাকায় প্রবাসী মো. মোকাররম মিয়াকে হত্যার আট খণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার নারী হেলেনা বেগম দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। একই মামলায় হেলেনার মেজো মেয়েকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
এদিন গ্রেপ্তার হেলেনা ও তার ১৩ বছরের মেয়েকে আদালতে হাজির করা হয়। হেলেনা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুগদা থানার এনামুল হক মিঠু তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
একই সঙ্গে হেলেনার মেয়েকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এর আগে সোমবার হেলেনা বেগম ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, মোকাররমের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল একই গ্রামের আরেক সৌদিপ্রবাসী সুমনের। সেই সুবাদে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার হাসনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমিকা তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে ১৩ মে (বুধবার) দেশে আসে মোকাররম। পরিবারকে না জানিয়ে ওঠে তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা আক্তারের মান্ডার বাসায়। এক রুমের ভাড়া বাসায় দুই মেয়েসহ থাকত হেলেনা।
ওইদিন রাতে তাসলিমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় মোকাররম। তবে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তার নিজের দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চায় ও মোবাইলে ধারণ করা ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় মোকাররম।
বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাসলিমা বান্ধবী হেলেনাকে সঙ্গে নিয়ে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। নিজের মেয়ের সঙ্গে মোকাররমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় তাসলিমার প্রস্তাবে রাজি হয় হেলেনা।
দুজনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মে সকালে মোকাররমের নাস্তায় ঘুমের ওষুধ দেয় তারা। ওষুধের প্রভাব শুরু হলে হেলেনা মোকাররমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু মোকাররম প্রাণে বাঁচার জন্য হেলেনার হাতে কামড় দেয় ও গলা চেপে ধরে।
এ সময় মোকাররমকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে তাসলিমা। পরে হেলেনা পাশে থাকা বঁটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় হেলেনার মেয়ে হালিমা মোকাররমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
পরে তাসলিমা বঁটি দিয়ে ৩-৪ বার আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর মোকাররমের লাশ আট খণ্ড করা হয়। পরে পলিথিনের বস্তায় ভরে তা বাথরুমে রেখে দেওয়া হয়। গভীর রাতে সুযোগ বুঝে লাশের সাত টুকরো পলিথিনে ভরে ভাড়া বাসার নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে দেয় ও মাথার অংশ বাসা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে ফেলে দিয়ে আসে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেন।




