রামিসা হত্যা
সবচেয়ে কম সময়ে চার্জশিট

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। মামলা হওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান গতকাল রবিবার এ অভিযোগপত্র জমা দেন আদালতে। আর এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে কোনো মামলায় সবচেয়ে কম সময়ে চার্জশিট জমা দিল পুলিশ— এমনটিই বলেছেন আইনজ্ঞরা।
চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ধর্ষণের পর হত্যায় সহায়তার অভিযোগ। একই দিন আলোচিত এ মামলাটির চারটি ধাপ শেষে সোহেল দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয় আগামী ১ জুন। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক— এই চার পর্যায় শেষে রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।
শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার বিচার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে, এমন ধারণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় নজিরবিহীন দ্রুততম সময়ে চার্জশিট জমা পড়ার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই দেখছেন আইনজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান আগামীর সময়কে বললেন, ‘আইনে আছে, আসামি হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবস আর হাতেহাতে ধরা না পড়লে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে তদন্ত প্রতিবেদন- এক্ষেত্রে এত কম সময়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় চার্জশিট ও ডিএনএ রিপোর্ট দেওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। আবার দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করলে অনেক গাফিলতি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এই মামলাটি সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তদারকি করা হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি, কোনো ত্রুটি ছাড়াই অভিযোগপত্র জমা হয়েছে।’
আলোচিত মামলার তদন্তে বিদ্যুৎগতি আর অন্য মামলায় ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। বললেন, ‘একটা জায়গায় প্রশ্ন থেকে যায়— যেসব ঘটনা মিডিয়ায় আসে না, তাদের ক্ষেত্রে কেন দ্রুত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় না। তাদের বিচার পাওয়ার জন্য কি রাস্তায় নামতে হবে? এটা তো তাদের সঙ্গে একধরনের অবিচার করার শামিল।’
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলছিলেন, ‘আইনের মধ্যে থেকেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ মামলাটি বিচারের মাধ্যমে আমরা একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চাই; যাতে কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়।’
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আজিজুর রহমান দুলুকে। তিনি বলছিলেন, ‘পুলিশের প্রবিধানের ২৬১(গ) অনুসারে যেকোনো জটিল মামলায় ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। সেক্ষেত্রে এই মামলায় আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য মামলার ক্ষেত্রেও এটা চর্চা করা উচিত। তাহলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।’
এক দিনে চার ধাপ শেষ: রামিসা হত্যা মামলায় গতকাল বিকালে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। এতে মামলায় বিচারের জন্য ১৫ জনকে করা হয়েছে সাক্ষী। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এতে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন- এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন নির্ধারণ করেন। তবে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলেও তাদের নেওয়া হয়নি কাঠগড়ায়।
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ: রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলা আসামিপক্ষে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মুসা কালিমুল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।






