শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: আদালতে দায় স্বীকার আসামি বিথীর

ফাইল ছবি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠান।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার বলেন, রিমান্ড চলাকালে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। পরে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর আসামি সাফিকুর রহমান ও স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুরের ৫ দিন ও তার স্ত্রী বিথীর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
একই দিনে গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের ৫ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুরকে কারাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে দায় স্বীকারের পর গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘উত্তরা ৯ নং সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানায়, ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে খুঁজছে। পরে তাদের সাথে দেখা করেন মোস্তফা। তারা জানায়, যাকে রাখবে বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে। তাতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন বাবা। তবে এরপর আর মোহনাকে পরিবারের সাথে দেখা করতে দেয়নি আসামিরা।
গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, মোহনা অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। পরে মোহনাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝে দেন সাথী।
তখন মোস্তফা দেখতে পান, মোহনার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থান গুরুতর জখম। মোহনা ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। সাথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর দিতে পারে না। পরে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
মোহনা জানায়, গত ২ নভেম্বর মোস্তফা তার সাথে দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিটসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।



