সরকারি নীতিমালা আপিলে বহাল
একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না

সংগৃহীত ছবি
একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, সরকারের এমন নীতিমালা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি নীতিমালার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা এক আবেদনের শুনানি করে আজ বুধবার এই আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
এর ফলে নীতিমালা অনুযায়ী একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির সারের ডিলারশিপ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা জুঁই। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইকরামুল হক টুটুল।
এর আগে, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, সরকারের এই নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন পাঁচ ব্যক্তি। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নীতিমালার কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থা দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
চেম্বার আদালতের আদেশ জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশে সার ডিলার এবং সার বিতরণসংক্রান্ত ২০০৯ সালে একটা নীতিমালা ছিল। সে নীতিমালা অনুসারে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য থাকতে পারবেন কি পারবেন না। অর্থাৎ একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, ছেলের নামে, মেয়ের নামে, পুত্রবধূর নামে একটা কোটারি সৃষ্টি করা হতো এবং একটা পারিবারিক মনোপলি সৃষ্টি করা হতো।
সেটা সংশোধনের জন্য ২০২৫ সালে যখন নীতিমালা আসে, সেই নীতিমালাও সংশোধন করে পরিবারের একই পরিবারভুক্ত সদস্যরা যেন একাধিক ডিলারশিপ না নিতে পারে কিংবা তারা যেন রাষ্ট্রকে, সরকারকে ও কৃষককে জিম্মি করতে না পারে, সেজন্য একটি সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনটা বর্তমান সরকার আসার পরে চলতি বছরের আগস্টে হয়েছে।
তিনি বলেন, এমন অবস্থায় পারিবারিকভাবে যারা দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই ব্যবসাটাকে জিম্মি করেছিলেন, এমন পাঁচজন পরিবারের সদস্য ৬ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে সরকারের প্রণীত নীতিমালার এই অংশটুকু চ্যালেঞ্জ করে দুইটি রিট আবেদন দায়ের করেন।
এই দুটি রিট আবেদনে তারা প্রার্থনা জানান, তাদের যেন কোনোভাবেই তাদের বিদ্যমান ডিলারশিপ থেকে বাদ করে দেওয়া না হয় এবং তারা যেন পূর্বের মতোই পারিবারিক বন্ধন অটুট রেখে সার ডিলারশিপের পুরনো ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তারা একটা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পেয়েছিলেন যে, তাদের কেউ সরাতে পারবে না। অর্থাৎ যদিও ২০২৬ সালের নীতিমালা অনুযায়ী এখন সারের ডিলার নিয়োগের নতুন প্রক্রিয়া চলছে, এরপরও তাদের যেন সরানো না হয়, তারা এমন স্থিতাবস্থার একটা আদেশ পেয়েছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সেই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল ফাইল করা হয়। বুধবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আপিলটি শুনেছেন এবং হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন।




