শুধু ন্যস্ত হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত করবে এপিবিএন
- আগস্টে অভিযানে হারানো ৭৮৬টি মোবাইল উদ্ধার, প্রায় ১০ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ

সংগৃহীত ছবি
শুধু ন্যস্ত হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত করবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেছেন, নতুন আইনে এপিবিএনের জন্য তদন্ত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিক ও বাস্তবতার কারণে যেসব অপরাধের তদন্তে জেলা পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে এপিবিএন তদন্ত করতে পারবে। আমাদের সশস্ত্র অবস্থান ঠিক আছে। এই সশস্ত্র অবস্থানের মধ্য থেকে আমরা সব মামলা তদন্ত করব না। সরকার-আদালত-আইজিপি থেকে যেসব মামলা আমাদের ন্যস্ত করা হয়, আমরা শুধু সেসব মামলাগুলো তদন্ত করব।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এপিবিএন ডিআইজি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে জেলা পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে বেগ পোহাতে হয়। সেজন্য সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে তদন্ত কার্যক্রমের জন্য আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া নতুন আইনে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের ভূমিকার বিষয়টিও আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় এপিবিএনের সদস্য সংখ্যা মাত্র ২২০০। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্প এলাকায় আরও জনবল দেওয়ার পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এপিবিএন জানায়, প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানে গত আগস্টে মাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এক মাসে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ, হাজার হাজার পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং বিকাশ-নগদ প্রতারণার ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের আগস্টের মাসিক কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণের বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৭ জনকে।
অস্ত্র-মাদকেও অভিযান: অভিযানে ২টি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড গুলি ও ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৬ হাজার ৬৫২ ইয়াবা, ৩ কেজি ৪৯০ গ্রাম গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯টি ভেপ। এ ঘটনায় ১১টি মামলা এবং ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
প্রযুক্তিতে নাগরিক সেবা: হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তায় ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ছাড়াও ৩টি ফেসবুক, ২টি হোয়াটসঅ্যাপ, ২টি ই-মেইল ও ১টি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ৫৭২ জন।
চোরাচালান ও জাল টাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বর্ণের পাশাপাশি ২০০ গ্রাম রুপার বার, ১ হাজার ৭৬ কেজি কসমেটিকস, ১১৫টি শাড়ি/থ্রি-পিস, ২৬৮ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ১৭টি ঘড়ি ও ১০ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে সৌদি, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুদ্রার পাশাপাশি ৪০ হাজার মার্কিন ডলার এবং ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা উদ্ধার হয়েছে। জাল টাকার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার: বিভিন্ন অভিযানে ২৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত, ১৫ জন এজাহারভুক্ত ও ৬ জন সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। জুয়া, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পুলিশ অ্যাসল্টসহ বিভিন্ন মামলায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪৮৩টি মামলায় ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। বিএসটিআই, কাস্টমস ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে আদায় ও জরিমানা করা হয়েছে আরও ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭২ টাকা।




