১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার খেসারত দিচ্ছে জ্বালানি খাত: জ্বালানিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
বিগত ১৭ বছরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার খেসারত এখন দেশকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ভূগর্ভ ও সমুদ্রে অনুসন্ধান না করায় জ্বালানি খাতে তৈরি হয়েছে সংকট।
শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, অতীত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে পুরোপুরি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ায় দেশ ‘ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মুখে’ পড়ে।
তিনি জানালেন, সংকট মোকাবিলায় আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে শুরু করা হবে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে করা হচ্ছে শক্তিশালী এবং নতুন রিগ কেনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, বাড়ি বাড়ি গ্যাস দেওয়া ছিল ঐতিহাসিক ভুল। তিনি দাবি করেন, শিল্প খাতের পরিবর্তে আবাসিকে গ্যাস ব্যবহারের কারণে দীর্ঘমেয়াদে সংকট তৈরি হয়েছে এবং এখন চাইলেই তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, অতীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়াকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলা যায়। তার ভাষায়, গত ১৭ বছরে কুইক রেন্টাল ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর হাতে চাবিকাঠি গেছে চলে।
জ্বালানিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধেই প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার চাপ সামলাতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করছে এবং এ কারণে নিয়মিতভাবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সৌর, বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। জুনের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব সৌর বিদ্যুৎ নীতি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বললেন, বর্তমানে সোলার ব্যাটারির ওপর উচ্চ কর বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি মেয়াদের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।






