ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত

মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্য করা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম প্রিভেনশনের যুগ্ম কমিশনার (সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া। আজ শুক্রবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে এক প্রতিবাদ মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।’ তার এই মন্তব্যের বিষয় তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, তিনি এই বক্তব্যটা কেন দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত কস্টিক সোডা ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সালফার ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত মারবেল ৫ কেজি, ১ ইঞ্চি তারকাঁটা ২ কেজি, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত লাল কসটেপ ২০টি ও কালো কসটেপ ১১টি, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত কাগজের তৈরি ৩ কার্টনে মোট ৯ হাজার পিস মুখোশ, মুখোশ পরার ইলাস্টিক ৩০ প্যাকেট, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়।
যুগ্ম কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া জানান, গ্রেপ্তার ইমন রাজধানীর লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা মুখোশগুলো মানুষের মুখের আকৃতির। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন মিছিল অথবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সময় পরিচয় গোপন রাখার জন্য এসব মুখোশ ব্যবহার করা হতো। জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সাহায্যে মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ইমন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, বিস্ফোরকগুলো দিয়ে ককটেল তৈরি এবং সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করার কথা ছিল। ওই বাসায় আরও একজন আসত। ওই ব্যক্তি বিস্ফোরকগুলো গুঁড়ো করে ককটেল তৈরি করত। এক নেতার নির্দেশে ইমন এ কাজে যুক্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে যেসব ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে ইমন জড়িত কি না জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই জড়িত। এই মুখোশগুলো তিনি নিজে তৈরি করেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ দলের কোনো বড় নেতার নির্দেশেই তাকে এসব সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল।’
ককটেল বিস্ফোরণের জন্য তিনি টাকা নিতেন কিনা জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, তিনি যেহেতু যুবলীগ নেতা, এর সঙ্গে অর্থের বিষয় থাকতে পারে আবার তিনি নিজের ইচ্ছায়ও এসব করতে পারেন। এটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসতে পারেন- সামাজিকমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়াচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সামনে বড় ধরনের কোনো নাশকতার শঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু ককটেল বিস্ফোরণ বা ছোট ছোট মিছিল হচ্ছে, এসব মিছিলের সঙ্গে নিষিদ্ধ দলের কেউ কেউ জড়িত। কিন্তু ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা কতটুকু বা কতটা বাড়তে পারে, সেটাও এখন বলা যাচ্ছে না। আমরা প্রতিদিনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি এবং পুলিশ সচেতন রয়েছে।
এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।



