মিরপুরে সংঘর্ষের পর ফের চলছে উচ্ছেদ অভিযান

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
আজ বুধবার সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পরিদর্শনে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি চলমান থাকবে। তার দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিরা এবং তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা হয়েছে।
এরপরই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো শুরু হয়। অভিযানটি বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের বিপরীত পাশ থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের দিকে যায়।
অভিযানে রাস্তায় একপাশে অস্থায়ী দোকানগুলো এক্সকাভেটরে দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। পরে সেই ভাঙা অংশগুলো সিটি কর্পোরেশনের ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ মিরপুর-১০ এ ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। করপোরেশনের অন্তত ৩টি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশের একটি গাড়ি ও উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটরও ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
সকালে মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এ সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়লে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, আগুনের ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে উচ্ছেদ অভিযানকারীদের ওপর হামলা চালান হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে তারা সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে আগুন দেন এবং পুলিশের গাড়ি ও অভিযানে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটরে ভাঙচুর চালান।
সংঘর্ষ ও উত্তেজনার কারণে মিরপুর-১০ এলাকার সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুর ১টার দিকে ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে।





