এসডিজি অর্জনে বড় বাধা তামাক পণ্য

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে (এনসিডি) হয়ে থাকে। এসব রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তামাক ও নিকোটিন পণ্য। ফলে শক্তিশালী আইন প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়ন ছাড়া অসংক্রামক রোগে অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তারা।
বৈঠকে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি এসডিজিবিষয়ক কৌশলগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যায়। এটি এসডিজির স্বাস্থ্যবিষয়ক লক্ষ্য-৩ অর্জনের অন্যতম বড় বাধা। শুধু স্বাস্থ্য নয়, দারিদ্র্য নির্মূল, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ এসডিজির প্রায় সব লক্ষ্য অর্জনেই তামাক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে— মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করায় বৈঠকে তা প্রশংসা করা হয়। তবে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ উদীয়মান তামাক ও নিকোটিন পণ্যকে আইনের আওতার বাইরে রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব পণ্যের বিষয়ে দ্রুত যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ই-সিগারেট ও এ ধরনের নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সদ্য সংশোধিত আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ থেকে আইন ও নীতিমালা সুরক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়ন জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়; এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তামাক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে তা এসডিজি অর্জনের পথকে সুগম করবে।’
‘ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের কষ্ট আমাদের চোখের সামনে তামাকের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। তামাকের ছোবল থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে’— বলছিলেন বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক।
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলমের মতে, ‘জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে আইনের কার্যকর বাস্তবায়নে গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।’
ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, ‘এসডিজি ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সম্পৃক্ত করে গণমাধ্যমে আরও বেশি খবরাখবর প্রকাশ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।





