কৌশলে ফেলে ছিনতাই, টার্গেট অটোরিকশা

প্রতীকী ছবি
প্রথমে যাত্রীবেশে ওঠে অটোরিকশায়। এরপর বিভিন্ন কৌশলে ছিনিয়ে নেয় রিকশাটি। অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞান করার মতো রাসায়নিক ব্যবহারও করে চক্রটি। কখনো কখনো হত্যা করে ছিনিয়ে নেয় অটোরিকশা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই ও চুরি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন কামাল ওরফে কমল চন্দ্র (৩৫), শাহিন মিয়া (৩০), রুবেল (৩০)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্য। তাদের কাছ থেকে চুরি ও ছিনতাই করা ১১টি অটোরিকশা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার বিকালে ধানমন্ডি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক জানালেন এমন তথ্য।
তিনি বললেন, ধানমন্ডি থানায় অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাইয়ের বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ধানমন্ডি, তেজগাঁও, বেগুনবাড়ী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা অভিনব কৌশলে অটোরিকশা চালকদের টার্গেট করত। বিশেষ করে যাত্রী সেজে সখ্যতা গড়ে তুলত। আবার কখনো প্রলোভন দেখিয়ে, কখনো অজ্ঞান করে চালকদের কাছ থেকে অটোরিকশা হাতিয়ে নিত।
এডিসি জিসান আরও জানিয়েছেন, এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে যাত্রীবেশে রিকশায় উঠত। এরপর কখনো টাইলসের দোকান, সিগারেটের দোকান বা অন্য কোনো অজুহাতে চালককে রিকশা থেকে দূরে পাঠাত। চালক দোকানে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা দ্রুত রিকশা নিয়ে পালিয়ে যেত। এ ছাড়া অনেক সময় তারা পান, চকলেট বা খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে দিত। আবার গভীর রাতে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা নাকের কাছে রুমালে মাখানো অজ্ঞান করার মতো রাসায়নিক ব্যবহার করেও রিকশা ছিনিয়ে নিত।
পুলিশ জানায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাম দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি। অনেক চালক ঋণ নিয়ে এসব রিকশা কেনেন। ফলে একটি রিকশা হারানো মানে পুরো পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়া।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চুরি হওয়া রিকশাগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো, এর পেছনে কোনো বড় সিন্ডিকেট বা মদদদাতা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






