জলাবদ্ধতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টতার ঝুঁকি, সতর্কতায় বাঁচবে প্রাণ
- ছেঁড়া তার থেকে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা
- বিদ্যুৎপৃষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধারের আগে নিজের নিরাপত্তা

জলাবদ্ধতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টতার ঝুঁকি বাড়ে। এ সময় দরকার বাড়তি সতর্কতা- ফোকাস বাংলা
শেওড়াপাড়া বউবাজার এলাকায় টিনশেড ঘরে ভাড়া থাকেন বিউটি বেগম। টানা বৃষ্টিতে ঘর পানিতে তলিয়ে গেলে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে রেফ্রিজারেটর খাটের ওপরে তুলতে যান। তখন পানিতে ডুবে থাকা বৈদ্যুতিক তার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এই দম্পতি। দূরে দাঁড়ানো ছেলের চিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এলে এ যাত্রা পাণে বেঁচে যান তারা।
ঘটনাটি আজ দুপুরের। প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার সময় রাজধানীতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। গত রাত থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে, ফুটপাত ও অলিগলিরও একই অবস্থা। দিনভর মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টতার ঝুঁকি। আজ সারাদিনে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও কেউ মারা যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতা শুধু জনদুর্ভোগ নয়, অনেক সময় তা পরিণত হয় নীরব মৃত্যুফাঁদে। পানিতে ডুবে থাকা ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার, ত্রুটিপূর্ণ স্ট্রিটলাইট, খোলা বৈদ্যুতিক সংযোগ, বৈদ্যুতিক খুঁটির লিকেজ কিংবা অবৈধ সংযোগ থেকে বিদ্যুৎ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
গত মে মাসে আনোয়ার হোসেন (৫৫) হেঁটে বাসায় ফেরার পথে সড়কের পাশে জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার ছিড়ে পানিতে পড়ে ছিল। হাসপাতালে তিনি মারা যান। যাত্রাবাড়িতে বইয়ের ব্যবসা করতেন তিনি। আবার ২০২৪ সালে জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে রাজধানীতে একদিনে চারজন মারা যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান আগামীর সময়কে বললেন, অধিকাংশ বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা বৈদ্যুতিক তারের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ঢিলা বৈদ্যুতিক সংযোগ, নিরাপত্তামান রক্ষা না করার কারণে ঘটে। সঠিক পদ্ধতিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ নিলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যায়।
সতর্কতায় ঝুঁকি কমে
রবিবার বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরেও যখন না আসে তখন বাসার নিচে গিয়ে দেখা যায়, বাসার বিদ্যুৎ মিটার পানির নিচে চলে গেছে। বিপদজনক অবস্থায় আছে। এমনটাই বলছিলেন পান্থপথের সোহাগ হাসান। পরে পান্থপথ জোনের বিদ্যুৎ অফিসে কল দিলে সোহাগ ব্যবস্থা নিতে বললে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস এ লাইনের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়। আড়াইটার দিকে অফিস থেকে লোক এসে লাইন কেটে যায়, যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলছিলেন, জলাবদ্ধতার পানিতে লুকিয়ে থাকে মৃত্যুফাঁদ। সতর্ক থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। এ সতর্কতা ব্যক্তিপর্যায় থেকে বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরও দরকার। আগের থেকে বিদ্যুৎ বিভাগ এখন বেশি সক্রিয়, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। এ কারণে চলতি বছরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঘটনার পরেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
জলাবদ্ধতায় বৈদ্যুতিক তার পানির নিচে থাকে বলে অনেকসময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টতার ঘটনা বুঝতে পারে না উদ্ধার করতে আসা ব্যক্তি। এ কারণেও জলাবদ্ধতার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানান প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ তানভীর আহমেদ। তার ভাষ্য, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে যিনি উদ্ধার করতে যাবেন, তিনিও একই ধরনের ঘটনার মুখোমুিখ হবার সম্ভাবনা থাকে।








