বিড়ির শুল্ক না বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন নেতৃবৃন্দ। ছবি : আগামীর সময়
রাজধানীতে বিড়ির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মদিবস বৃদ্ধি, নকল বিড়ি উৎপাদন বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে মানববন্ধন করেছে সংগঠনটি।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিড়িশিল্প-সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা অংশ নেন। তাদের দাবি, দেশের প্রায় ১৮ লাখ দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবিকা এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে ক্ষুদ্র বিড়ি কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং কর্মহীন হয়ে পড়বেন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় বিড়িশিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বিভিন্ন সময়ে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে শিল্পটি সংকটে পড়েছে। তিনি বলেছেন, বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বিড়ির ওপর বারবার কর বাড়ানো হচ্ছে, যা দরিদ্র শ্রমিকদের জীবিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মানববন্ধনে আরও জানানো হয়, বিড়িশিল্প দেশের অন্যতম রাজস্ব প্রদানকারী খাত হলেও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে প্রকৃত মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানো, লাইসেন্সধারী সব ফ্যাক্টরিতে বাধ্যতামূলক ব্যান্ডরোল ব্যবহার নিশ্চিত করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ হোসেন বলেছেন, হঠাৎ করে শুল্ক বৃদ্ধি করা হলে দেশীয় বিড়িশিল্প আরও সংকটে পড়বে এবং এর প্রভাব প্রান্তিক শ্রমিকদের জীবিকার ওপর পড়বে। যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না।
তিনি আরও বলেছেন, বিড়িশিল্প দেশীয় শ্রমিকবান্ধব শিল্প। তবে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও এই শিল্পকে ধ্বংস করতে নানা যড়যন্ত্রে লিপ্ত। ফলে প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়িমালিকদের কারখানা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।




