অফিসে ঢুকেই গেট বন্ধের নির্দেশ, হাজিরায় ২৫% অনুপস্থিত পেলেন ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিলেন প্রশাসক। সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কোনো প্রটোকল ছাড়াই আঞ্চলিক কার্যালয়-৫-এ এ পরিদর্শন চালানো হয়।
সকালে পরিদর্শনের গোপনীয়তা বজায় রাখতে প্রশাসক শুধু ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে সঙ্গে নিয়ে বের হন। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তিনি আঞ্চলিক কার্যালয়-৫-এর সামনে পৌঁছান। কিছুক্ষণ বাইরে অবস্থান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে সকাল ৯টা ২ মিনিটে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন প্রশাসক। এ সময় তিনি মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের পর কেউ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না পারেন।
এরপর কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন তিনি। একই সঙ্গে হাজিরা খাতা যাচাই করেন। এতে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রশাসক।
পরে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলীকে নির্দেশ দেন।
আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শনের পর ডিএসসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহানপুর এলাকায় যান প্রশাসক। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতা তদারকি করেন। এ সময় কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অনুপস্থিতি দেখতে পান তিনি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসক।
পরে মতিঝিল পীর জঙ্গির মাজার থেকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি।
অভিযানে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও সাময়িক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এতে পথচারীদের চলাচলের পথ কিছুটা সুগম হয়।
পরিদর্শন ও উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘নাগরিক সেবা প্রদানে যেকোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কর্মচারী কিংবা বাইরের কোনো পক্ষ জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’



